Published : 19 Jan 2026, 07:15 PM
জাতির উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দিয়ে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেছেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনার হাতে। ‘হ্যাঁ’ তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে।
“হ্যাঁ তে আপনি নিজে সিল দেন। আপনার পরিচিত সবাইকে সিল দিতে উদ্বুদ্ধ করুন এবং তাদেরকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। দেশ পাল্টে দেন।”
সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রধান উপদেষ্টার ওই ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।
জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এটি অপ্রত্যাশিতভাবে জাতির জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিয়েছে।
“এই লক্ষ্যে আমরা এর মধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করেছি। আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছি।”
তিনি বলেন, “এই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সম্মতি প্রয়োজন। এর জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এই গণভোটে অংশ নিন, সনদে আপনার সম্মতি দিন।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এই গণভোট হবে। ভোটারের তাছে জানতে চাওয়া হবে তিদনি জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোতে সম্মতি দিচ্ছেন কি না। ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ লেখা ঘরে সিল দিয়ে ভোটারকে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “গণভোটে আপনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ আর নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল এক সঙ্গে কাজ করবে।
“সরকার ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে।”
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এতে আরও বলা আছে, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতিরা নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
“সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় পার্লামেন্টে একটি উচ্চ কক্ষ গড়ে তোলা হবে। আপনার মৌলিক অধিকার আরো সুরক্ষিত হবে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি পাবে।”
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে “দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীরকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমত ক্ষমা করতে পারবেন না। সব ক্ষমতা একজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না। এবং এরকম আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এর মধ্যে রয়েছে।
“আমি আপনাদের সকলের প্রতি আহ্বান জানাই আগামী নির্বাচনে গণভোটে অংশ নেন। রাষ্ট্রকে আপনার প্রত্যাশা মত গড়ে তোলার জন্য ‘হ্যাঁ’তে সিল দেন।”