আফগান রিজার্ভ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান আলোচনায় অগ্রগতি

আফগান রিজার্ভ নিয়ে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান আলোচনা সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তা এই অগ্রগতির আভাস দিয়েছেন। তবে দু’পক্ষে এখনও মতবিভেদ রয়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

রয়টার্স
Published : 26 July 2022, 02:18 PM
Updated : 26 July 2022, 02:18 PM

বিদেশে আটকে দেওয়া আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকশ’ কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়ানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান কর্মকর্তারা প্রস্তাব বিনিময় করেছেন। এতে আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটানোর চেষ্টায় অগ্রগতির আভাসও মিলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে আফগান রিজার্ভ নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তা এই অগ্রগতির আভাস দিয়েছেন। তবে দু’পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতবিভেদ রয়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। যার জেরে বিদেশে থাকা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আটকে দেওয়া হয়। দেশটির জন্য বরাদ্দ নানা বৈদেশিক সহায়তা তহবিলও স্থগিত করা হয়।

ফলে দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে আগে থেকে বিপর্যস্ত আফগানিস্তানের অর্থনীতি আরো গভীর সংকটে পড়ে। তালেবান সরকারকে এখনও বাইরের কোনও দেশ স্বীকৃতি দেয়নি।

এ অবস্থায় আফগান রিজার্ভ ছাড়াতে তালেবান প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করেছে। তবে এখনও উভয় পক্ষ বেশ কয়েকটি বিষয়ে একমত হতে পারেনি।

যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে, তার একটি হল, যুক্তরাষ্ট্র আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদগুলোতে দেওয়া রাজনৈতিক নিয়োগ পরিবর্তন করতে বলেছে। যা মানতে এখনও রাজি হয়নি তালেবান প্রশাসন। আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ পাওয়া এক তালেবান নেতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।

কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠানটিকে ইসলামপন্থি জঙ্গি গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রেখে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

তালেবান অবশ্য এই ‘ট্রাস্ট ফান্ড’ ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেনি। বরং তাদের আপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য একটি প্রস্তাবে। তালেবান সরকারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই রিজার্ভ তৃতীয়পক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকার প্রস্তাব করেছে। যারা রিটার্ন রিজার্ভ ধরে রাখা ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সুইজারল্যান্ড এবং অন্যান্য পক্ষের সাথে একটি প্রক্রিয়া তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছে। যাতে ‘ট্রাস্ট ফান্ড’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং যা থেকে একটি আন্তর্জাতিক বোর্ডের সহায়তায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ওই প্রক্রিয়ার একটি সম্ভাব্য মডেল হতে পারে ‘আফগানিস্তান রিকন্সট্রাকশন ট্রাস্ট ফান্ড’। ওই ফান্ডটি বিশ্বব্যাংক শাসিত তহবিল হবে। আফগানিস্তানের উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে বিদেশ থেকে কাবুলকে যে আর্থিক সহায়তা পাঠানো হবে তা ওই ফান্ডের মাধ্যমে আসবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে এখনও কোনও ‘চুক্তি হয়নি’ বলে জানান অর্থনীতির অধ্যাপক আফগান-আমেরিকান শাহ মেহরাবি। তিনি আফগান সেন্ট্রাল ব্যাংকের সুপ্রিম কাউন্সিলের একজন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সুইজারল্যান্ডের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কেন্দ্রীয় অধিদপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। আফগান সেন্ট্রাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু তাদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার বিদেশে রয়েছে। তারমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই আছে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক