আবারও জনসম্মুখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর তালেবানের

গত বছর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসা তালেবানের জনসম্মুখে এটাই প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Dec 2022, 05:06 PM
Updated : 7 Dec 2022, 05:06 PM

গতমাসে পুনরায় আফগানিস্তান জুড়ে কঠোর শরিয়া আইন প্রণয়নের নির্দেশ জারির পর বুধবার প্রথমবারের মত জনসম্মুখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তালেবান প্রশাসন।

গত বছর অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসা তালেবানের জনসম্মুখে এটাই প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বলে জানায় বিবিসি।

তালেবানের এক মুখপাত্র বলেন, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তির নাম তাজমির। যিনি পাঁচ বছর আগে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে খুন করার কথা স্বীকার করেছেন। বুধবার দক্ষিণ-পশ্চিমের ফারাহ প্রদেশের একটি জনাকীর্ণ স্টেডিয়ামে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

দলটির বেশ কয়েকজন নেতাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যাদের মধ্যে তালেবান সরকারের কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রীও রয়েছেন।

গত মাসে তালেবানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা একটি ফরমান জারি করে বিচারকদের জনসম্মুখে মৃত্যুদণ্ড, জনসম্মুখে অঙ্গহানী এবং পাথর মারার মত ইসলামি শরিয়া ভিত্তিক শাস্তি প্রদাণের নির্দেশ দেন।

তবে ঠিক কী কী অপরাধের জন্য এসব শাস্তি দেওয়া হবে তা সংজ্ঞায়িত করা হয়নি।

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে তালেবান হরহামেশাই জনসম্মুখে এ ধরণের শাস্তি কার্যকর করেছে। তবে এবার তারা ক্ষমতা দখলের পর বলেছিল, যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে তারা তাদের শাসন ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন করবে এবং এ ধরনের কঠিন শাস্তি দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।

কিন্তু নিজেদের আরও অনেক প্রতিশ্রুতির মত এটা থেকেও সরে গিয়ে পুরাতন চেহারায় ফিরে গিয়েছে তালেবান।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তাজমির হেরাত প্রদেশের বাসিন্দা গুলাম সারওয়ারের পুত্র। পাঁচ বছর আগে মুস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে তার বিচার চলেছিল। তালেবানের তিনটি আদালত তাকে পরপর দোষীসাব্যস্ত করে। পরে মোল্লা আখুন্দজাদা তার মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন।

তাজমিরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে জনগণের জন্য একটি নোটিশ জারি করা হয়। যেখানে ‘নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড দেখতে স্টেডিয়ামে যেতে বলা হয়’।

তাজমিরের হাতে খুন হওয়া মুস্তফার মা বিবিসি-কে বলেন, তালেবান নেতারা তার কাছে গিয়ে তাজমিরকে ক্ষমা করে দিতে বলেছিলেন।কিন্তু তিনি ক্ষমা না করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলেছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক