০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

জ্ঞান ফিরেছে, কথাও বলছেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টায় বেঁচে যাওয়া সেই মার্কিন নারী

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে টেনেসির ন্যাশভিলে আসামি ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে দুবার বিষাক্ত ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে যান।

জ্ঞান ফিরেছে, কথাও বলছেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টায় বেঁচে যাওয়া সেই মার্কিন নারী

ক্রিস্টা পাইক। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 05:25 PM

Updated : 07 Oct 2026, 05:25 PM

তার জ্ঞান ফিরেছে। একটু একটু কথাও বলছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি রাজ্যে গত সপ্তাহে ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টায় বেঁচে যাওয়া সেই নারী আসামি ক্রিস্টা পাইকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ক্রিস্টার আইনজীবীরা জানান, হাসপাতালে হাতকড়া পরা অবস্থায় তাকে এখনও মেডিক্যাল কেয়ারে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিবিসি-কে একজন চিকিৎসক জানান, পাইক ইশারা-ইঙ্গিতে বা হালকাভাবে কথাবার্তা বলতে পারছেন। তবে তাকে যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল সেই ঘটনাটি তার মনে নেই।

১৯৯৫ সালে কলিন স্লেমারকে খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন ক্রিস্টা পাইক। দীর্ঘ বিচারপক্রিয়া শেষে তার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে টেনেসিতে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

সেখানে তার শরীরে প্রাণঘাতী বিষপ্রয়োগ করা হয়। একবার নয়, পর পর দু’বার। কিন্তু তার পরও মৃত্যু হয়নি বছর ৫০ এর এই নারী বন্দির।

গত সপ্তাহে বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা নাগাদ ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তাকে ‘পেন্টোবারবিটল’ নামে দু’টি রাসায়নিক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়।

কিন্ত এতে পাইক জ্ঞান হারালেও তার মৃত্যু হয়নি। তার পর থেকে অচেতন অবস্থাতেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। তার শরীর থেকে বিষও বের করা হয়। বিশেষজ্ঞেরা এবং পাইকের আইনি সহায়ক দল এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

বিবিসি-র প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোর্ডহ্যাম ল স্কুলের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক ডেবরো ডেনো পাইকের জ্ঞান ফেরা ও কথা বলার খবরে ‘হতবাক’ বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এর আগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিও বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আসামির শরীরে বিষপ্রয়োগ করা যায়নি শিরা খুঁজে না পাওয়ার কারণে। কিন্তু পাইকের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা এবং আশ্চর্যজনক। তিনিই একমাত্র মানুষ, যাকে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে গেছেন।

আবার কি ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু হবে? বিবিসি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে জেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। এমনকি বিষপ্রয়োগের পরেও পাইক কী ভাবে বেঁচে গেলেন, সে বিষয়েও কোনও ব্যাখ্যা তারা দেয়নি।

ঘটনার জেরে টেনেসির গভর্নর বিল লি একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, চলতি বছরের বাকি থাকা সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছেন তিনি। যদিও টেনেসির কারা দফতরের দাবি, তারা আইনি প্রোটোকল মেনেই কাজ করেছে।