রানির শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান ঘিরে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো হামলার সুযোগ নিতে পারে; এ কারণে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
Published : 15 Sep 2022, 01:32 PM
ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে বিশ্ব নেতাদের আগমন ঘিরে স্মরণকালের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তার আয়োজন করছে লন্ডন পুলিশ।
বিবিসি লিখেছে, রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠান টেলিভিশনে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দেখবে, যা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে হামলার উসকানি যোগাতে পারে। এ কারণে অভূতপূর্ব নিরাপত্তার প্রয়োজন পড়ছে।
রানির কফিন এখন রাখা হয়েছে ওয়েস্টমিনস্টার হলে। রাস্তায় লাইন ধরে সেখানে রানির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যাচ্ছে হাজারো মানুষ। শেষ বিদায়ের ক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, মানুষের ভিড়ও তত বাড়ছে।
সোমবার শেষকৃত্যের সেই আয়োজনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, জাপানের রাজা-রানি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, কাতার, ইসরায়েল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা লন্ডনে যাচ্ছেন।
ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে রানিকে শ্রদ্ধা ও বিদায় জানাতে যাবেন বিশ্ব নেতারা; কিন্তু সেখানে উন্মুক্ত শেষকৃত্যানুষ্ঠান ঘিরে স্থায়ী কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
বিবিসি লিখেছে, সন্ত্রাস দমন পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভ এবং গভার্নমেন্ট কমিউনিকেশন হেডকোয়ার্টাস (জিসিএইচকিউ) কাজ করছে। লন্ডন পুলিশও শক্তি বৃদ্ধি করেছে, সামরিক কর্মকর্তা এবং বেসামরিক স্টুয়ার্ডরাও যোগ দিয়েছেন এ কাজে।
রানিকে যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত রাখা হবে, সেই ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবির বিশাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে সবকিছু খতিয়ে দেখবে পুলিশ। প্রতিটি ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে পরীক্ষা করে দেখার পর আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে, ল্যাম্পপোস্টগুলো খুলে পরীক্ষা করা হবে।
কোথাও কোনো বিস্ফোরক ডিভাইস রাখা হয়েছে কিনা তাতে নজর দেওয়া হবে। ডগ স্কোয়াড দিয়ে পুরো এলাকায় তল্লাশি চালানো হবে।
সোমবার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের সকালে ভবনগুলোর ছাদ থেকে অসংখ্য পুলিশ নজরদারি চালাবে। দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারাও সর্তক অবস্থান নেবেন।
সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলার প্রাথমিক পর্যায়ে লন্ডনের জনগণকে চোখ-কান খোলা রাখতে বলছে পুলিশ। সবাইকে সবার ব্যাপারে নজর রাখতে বলা হচ্ছে। অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কিছু সামনে এলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতেও বলা হচ্ছে।
লন্ডনের রাস্তায় শ্রদ্ধা জানাতে আসা হাজারো মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলা রাখার কাজে সহায়তার জন্য বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কয়েকশ লোক ভাড়া করেছে ব্রিটিশ সরকার।
মঙ্গলবার রাত থেকে গুর্খা ও প্যারাট্রুপার ইউনিট, রয়্যাল নেভি পুলিশ, রয়্যাল মিলিটারি পুলিশ এবং রয়্যাল এয়ারফোর্সের দেড় হাজার কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। একটি সামরিক হেলিকপ্টার ওয়েস্টমিনস্টারের ওপর দিয়ে গোটা এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছে।
সহিংস চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে- এমন সন্দেহভাজনদের আচরণ ভেতরে ভেতরে পর্যবেক্ষণ করছে এমআই ফাইভ।
জিসিএইচকিউ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে। ওয়েস্টমিনস্টারের ছাদে ইতোমধ্যে দূরবীন নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন সশস্ত্র পুলিশ অফিসাররা।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা কেউ সন্ত্রাসী পরিকল্পনা করলে কীভাবে তাকে আগেভাগে শনাক্ত করা যায়, সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের।
বিভিন্ন স্থানে বসানো সিসি ক্যামেরা, মোবাইল সিটিভি ক্যামেরাসহ অতিরিক্ত ক্যামেরা লাগানো হয়েছে বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায়। বিস্ফোরক দ্রব্য খুঁজে বের করতে ডগ স্কোয়াডের কুকুরগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
লন্ডনে প্রতিদিন হাজারো পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হচ্ছে। লন্ডনের বাইরে স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ড থেকেও বিশেষজ্ঞ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আনা হচ্ছে।
লন্ডন পুলিশের উপ সহকারী কমিশনার স্টুয়ার্ট কান্ডি বলেন, “এটা ভিন্ন রকমের আয়োজন, তবে আমরা আমাদের কাজে দক্ষ। অফিসাররা ভালোভাবে প্রশিক্ষিত এবং এ ধরনের বড় ইভেন্টগুলোতে পুলিশি কার্যক্রম জোরদারের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞ।”
বিবিসির প্রতিবেদনে এই নিরাপত্তা আয়োজনকে ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তবে সেসময় লোকজন অলিম্পিকের ভেন্যুগুলোতে সময় কাটিয়েছেন এবং নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট দিয়ে তাদের যেতে হয়েছে।
আর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে কেবল ওয়েস্টমিনস্টার হলের প্রবেশপথে রয়েছে চেকপয়েন্ট, যেখানে প্রবেশের আগে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
দ্বিতীয় এলিজাবেথের মা রানিমাতা এলিজাবেথ ও প্রিন্সেস ডায়ানার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের সঙ্গেও এটি তুলনা করা যায়। তবে গোটা বিশ্ব থেকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আগমনের কারণে এবারের অনুষ্ঠানটি একেবারেই ব্যতিক্রমী, ফলে নিরাপত্তার আয়োজনও তুলনামূলক বেশ জটিল।
আরও খবর