ভারতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে অনড় ‘ককরোচরা’, মাঠে ৩০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী
যন্তর মন্তরমুখী আন্দোলন ঠেকাতে বন্ধ করা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট; মেট্রো স্টেশন।
ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) যে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে, সেই কর্মসূচি ভেস্তে দিতে ৩০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, শনিবার দিল্লির কেন্দ্রস্থলে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে মেট্রো স্টেশন, মোবাইল ইন্টারনেট সেবা ও বাজার।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এদিন যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা কয়েক হাজার মানুষকে সমবেত করার আশা করছেন। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন তারা।
সমালোচকদের অভিযোগ, এ সংশোধনের ফলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পাবে।
বিবিসি লিখেছে, বিক্ষোভ সামলাতে রাজধানী জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা বলয়। প্রতিবাদ কর্মসূচি ভেস্তে দিতে শহরের প্রধান সড়কে মোতায়েন করা হয়েছে ৩০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য। সমাবেশস্থল ‘যন্তর মন্তর’ -এর সবকটি প্রবেশপথে লোহার ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে কেবল সড়ক নয়, যাতায়াত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও একাধিক বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে ঢোকা ও বের হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত সমাবেশস্থল ঘিরে চার কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার বাসিন্দা ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে বিরোধী দলগুলো এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সিইসির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে।
এখন পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বা পদত্যাগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
তবে দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ সমাবেশের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা নূপুর প্রসাদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, অনুমোদন না দেওয়ার অন্যতম কারণ আয়োজকদের ‘স্বল্প সময়ের নোটিসে’ আবেদন করা।
তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যন্তর মন্তরে কোনো কর্মসূচি আয়োজন করতে হলে অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করার রেওয়াজ থাকলেও সিজেপি তা মানেনি।
তাছাড়া আগের আন্দোলনে তারা আইনি নির্দেশনা মানেননি দাবি করে নূপুর প্রসাদ বলেন, “বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থেই এই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
তবে পুলিশি অনুমতির বাধ্যবাধকতা মানতে চাইছেন না আন্দোলনকারীরা।
তাদের দাবি, আইন অনুযায়ী যেকোনো জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে জড়ো হতে পুলিশকে কেবল অবহিত করার বিধান রয়েছে, কোনো অগ্রিম অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
অনুমতি না মিললেও কর্মসূচি পালনে অটল রয়েছে আন্দোলনের মুখ্য দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন হিসেবে যাত্রা করা সংগঠনটির প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানান, শনিবার সকালে ‘যাই ঘটুক না কেন’ সিজেপি যন্তর মন্তরের দিকে যাবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ইঙ্গিত করে অভিজিৎ দীপকে এক্স পোস্টে লেখেন, “আপনি যদি আমাদের কারাবন্দি করতে চান কিংবা গুলি করতে চান, তবে আমরা সে জন্যও প্রস্তুত।”
এর আগে জুলাই মাসে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ধারাবাহিক বিক্ষোভ করে মোদী সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল এই সংগঠনটি।
তাদের আন্দোলনের মুখেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে গত সপ্তাহে মুম্বাই ও গত বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে বড় ধরনের সমাবেশ করে সিজেপি।
কৃষক সংগঠন, একাধিক ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো সমর্থন দেওয়ায় শনিবারের আন্দোলনকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
