২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে আবার আন্দোলন, ককরোচ পার্টির হুঁশিয়ারি

ভারতের ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে রাজধানী দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান-বিক্ষোভ করা হবে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে আবার আন্দোলন, ককরোচ পার্টির হুঁশিয়ারি

নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে। ছবি: রয়টার্স ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 24 Sep 2026, 11:17 PM

Updated : 24 Sep 2026, 11:17 PM

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে আবার যন্তর মন্তরসহ দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার ডাক দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

বৃহস্পতিবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে সিজেপি’র পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের জন্য ওই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

সিজেপি’র প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে জ্ঞানেশ পদত্যাগ না করলে দিল্লি-সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান-বিক্ষোভ করা হবে।

দলের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস জানিয়েছেন, তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, জ্ঞানেশ কুমার এবং তাকে নির্দেশ দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং আসন্ন সব নির্বাচন আপাতত স্থগিত রাখা।

পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়াকে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে।

এসআইআর সংক্রান্ত সব নথি সুপ্রিম কোর্টের নেতৃত্বাধীন কমিটির হেফাজতে রাখার দাবিও জানিয়েছে তারা। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে।

দলটি বলেছে, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং নতুন আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে হবে।

সাংবাদিক বৈঠকে দীপকে বলেন, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সবচেয়ে বড় দেশদ্রোহী। তার এখনই পদত্যাগ করা উচিত। কারণ, তিনি দেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক।”

দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বিরুদ্ধে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ করেছে এবং 'ইলেকশন কমিশন ঠিক কর' প্রচারাভিযান শুরু করেছে।

সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে মতপার্থক্যের কথা সামনে আসে, যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় হচ্ছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, অভ্যন্তরীন আলোচনায় মতপার্থক্য, লিখিত পর্যবেক্ষণ এবং পরস্পরের মত যাচাই করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কমিশনের দাবি, গত এক বছরে নেওয়া এসআইআর-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।

তবে কমিশন এই ব্যাখ্যা দিলেও বিতর্ক থামেনি। উল্টে বিরোধী দলগুলো জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেছে। এবার তার পদত্যাগ চাইল ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি)।

জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে সিজেপি’র আরও অভিযোগ, তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির ভোট শতাংশ বেড়েছে।

অভিজিৎ দীপকে দাবি করেছেন, বিজেপির ভোটের হার বাড়াতে জ্ঞানেশ কুমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। একই সঙ্গে তার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই সিইসি কাজ করছেন।

সিজেপি’র সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার অভিযোগ, বর্তমানে ১৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলা এসআইআর প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার দাবি, ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ গেলে সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

দীপকে বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ককরোচ জনতা পার্টি দেশজুড়ে প্রতিবাদে নামবে। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা পিছু হটব না।”

এর আগে গত জুন মাসে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এ অনিয়মের প্রতিবাদে এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানে বসেছিল সিজেপি।

তাদের আন্দোলনে শামিল হন শিক্ষাবিদ এবং সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুকও। অনশনে বসেন তিনি। ককরোচদের আন্দোলনের জেরে ২৫ জুলাই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র। এবার জ্ঞানেশ পদত্যাগ না করলে ফের সেইরকম আন্দোলনেরই হুঁশিয়ারি দিলেন দীপকে।