ইউক্রেইনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করল দক্ষিণ কোরিয়া
দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দিকে সিউলে হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইউক্রেইনের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেইন যুদ্ধে অংশ নেওয়া এবং পরে ইউক্রেনীয় সেনাদের হাতে আটক হওয়া দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ করার প্রতিবাদে সিউলে নিযুক্ত ইউক্রেইনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত সপ্তাহে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, তার সরকার যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দি হওয়া দুজন উত্তর কোরীয় সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইয়ুন-জু ইউক্রেইনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রি ভিয়েশকিনের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং জেলেনস্কির পক্ষ থেকে বন্দি স্থানান্তরের বিষয়টি প্রকাশ করায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন, যা সিউলের মতে গোপন রাখার কথা ছিল।
ইউক্রেইন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন করা হাজার হাজার সেনার মধ্যে থাকা দুই উত্তর কোরীয় নাগরিক এর আগে স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন যে, তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে চান।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মায়ুং ইউক্রেইনের তথ্য প্রকাশ করে দেওয়াকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে,
উত্তর কোরীয় সেনা হস্তান্তরের বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করার মতো একটি খুবই সংবেদনশীল বিষয়। বিবিসি এ বিষয়ে ইউক্রেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
২০২৫ সালের শুরুতে ইউক্রেইন জানিয়েছিল, তাদের সেনারা রাশিয়ার কুরস্ক ওব্লাস্টে দুইজন উত্তর কোরীয় সেনাকে আটক করেছে।
সিউল এবং কিইভের মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার পর, গত বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জেলেনস্কি ঘোষণা দিয়ে বলেন,
তাদেরকে (উত্তর কোরীয় সেনা) দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও জানান যে, ওই সেনাদেরকে জীবন্ত বন্দি করা সহজ ছিল না।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছে; তবে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তার কড়া সমালোচনাও করেছে।
কারণ, এই সেনা হস্তান্তরের বিষয়টি গোপনে রাখার বিষয়ে সিউলের সঙ্গে কিইভের সে সমঝোতা হয়েছিল, তা জেলেনস্কি ভেস্তে দিয়েছেন বলে অভিযোগ দক্ষিণ কোরিয়ার।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি-এর কার্যালয় জানায়, উত্তর কোরিয়ার সেনাদের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল।
তাছাড়া ইউক্রেনও বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে চেয়েছিল, যাতে তাদের দেশের মানুষ এই সমালোচনা না করে যে, কেন তারা এই শত্রু সেনাদের বদলে নিজেদের বন্দি সেনাদের মুক্ত করে আনল না।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি এর কার্যালয় ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছে যে, ইউক্রেইন ইঙ্গিত দিয়েছিল জেলেনস্কির ভাষণে উত্তর কোরীয় সেনাদের কথা উল্লেখ করা হবে, কিন্তু তাদেরকে স্থানান্তরের বিষয়টি নয়।
কিন্তু ঝামেলা বাধে তখনই যখন জেলেনস্কির কার্যালয় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাবি করে যে, দুই দেশের মধ্যে কোনও গোপনীয়তা বজায় রাখার চুক্তি বা সমঝোতা ছিল না।
দক্ষিণ কোরিয়া মিথ্যা কথা বলার জন্য ইউক্রেইনকে ক্ষমা চাইতে বলেছে। সিউল বলেছে, এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে।
জেলেনস্কির তথ্য ফাঁসের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দল উত্তর কোরিয়াকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য এই সেনা হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন রাখার অভিযোগে লি কে অভিযুক্ত করেছে।"
প্রেসিডেন্ট লি এর দল উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে সমঝোতামূলক বা নমনীয় নীতি নিয়েছে। লি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে তাতে খুব একটা সফলতা পাননি।
