ফিলিপিন্সে ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ৬৮

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে দাভাও দে ওরো প্রদেশে ভূমিধসের ওই ঘটনায় এখনও ৫১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Feb 2024, 06:24 AM
Updated : 13 Feb 2024, 06:24 AM

ফিলিপিন্সে এক সপ্তাহ আগে হওয়া এক ভূমিধসের ঘটনায় একটি সোনার খনির গ্রামে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার দাভাও দে ওরো প্রদেশে ভূমিধসের ওই ঘটনায় এখনও ৫১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে তাদের বেঁচে থাকার আশা তেমন নেই বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।

সর্বশেষ তিন বছরের একটি মেয়ে শিশুকে কাদা থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। কাদার স্রোতের নিচে চাপা পড়ার ৬০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার পাওয়ার এ ঘটনাকে উদ্ধারকর্মীরা ‘অলৌকিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।  

দাভাও দে ওরো প্রদেশের দুর্যোগ সংস্থার কর্মকর্তা এদোয়ার্দ মাকাপিলি জানান, ওই সময় এ ঘটনা উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে ‘আশা জাগিয়ে দিয়েছিল’। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ওই আশা মিলিয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, “ঘটনার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই বলে ধারণা করছি আমরা। ইতোমধ্যে সেখানে একটি দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা দরকার।”

বিবিসি জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে ভূমিধসের এ ঘটনা ঘটেছিল। এতে ৫৫টি বাড়ি, তিনটি বাস ও একটি জিপনি বাস কাদার ঢলের নিচে চাপা পড়েছিল। এই যানগুলো সোনার খনির শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল।

মৃত ও নিখোঁজদের ব্যবস্থাপনা পরিষেবার (এমনডিএম) একটি দলের সদস্য লিয়া আনোরা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ৪২ জন স্থানীয় গ্রামবাসী ও ২৬ জন সোনার খনির কর্মী। আরও ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

পাহাড়ি ভূখণ্ড, ভারি বৃষ্টিপাত এবং খনি ও অবৈধ কাঠ আহরণের জন্য বন উজাড়ের কারণে ফিলিপিন্সে ঘন ঘন ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। 

মিন্দানাওয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে ভারি বৃষ্টিতে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ফলে হাজার হাজার মানুষ জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হয়।

ওই এলাকায় পরপর বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পও হয়। এর মধ্যে শনিবার হওয়া ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য উদ্ধারকর্মীরা তাদের অভিযান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন।