আমিনির মৃত্যু: ইরানে বিক্ষোভের বিস্তৃতি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮

নীতি পুলিশের হেফাজতে এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিক্ষোভ ইরানের ৫০টি নগর ও শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Sept 2022, 04:09 AM
Updated : 22 Sept 2022, 04:09 AM

নীতি পুলিশের হেফাজতে এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিক্ষোভ ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। পাঁচ দিন ধরে চলা এ প্রতিবাদে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

গত সপ্তাহে ইরানের কুর্দিস্তান থেকে রাজধানী তেহরানে আসা ২২ বছর বয়সী নারী মাশা আমিনিকে হিজাব আইন লংঘনের দায়ে গ্রেপ্তার করেছিল নগরীর নীতি পুলিশ। পরে তাদের হেফাজতে মাশার মৃত্যু হয়। এর প্রতিবাদে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথমে বিক্ষোভ ইরানের কুর্দি অধ্যুষিত উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে শুরু হলেও ক্রমে তা দেশটির ৫০টি শহর ও নগরে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৯ এ পেট্রলের দাম নিয়ে হওয়া বিক্ষোভের পর দেশটির দেখা সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ এটি।

বুধবার ইরানি কতৃপক্ষ ও একটি কুর্দি অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠী চলমান প্রতিবাদে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নতুন বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে।

গত দুই দিনে ৪ জন নিহত হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যম ও স্থানীয় এক কৌঁসুলি জানিয়েছেন। এতে সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য ও সরকারপন্থি মিলিশিয়া বাহিনীর একজন সদস্য রয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

তবে কুর্দি অধিকার আন্দোলন গোষ্ঠী হেনগাও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১০ প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে বুধবার তিন জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। এরা সবাই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

তবে তাদের এসব দাবি রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।

নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিবাদকারীদের হত্যা করেছে, এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা সশস্ত্র ভিন্নমতাবলম্বীদের গুলিতে নিহত হয়ে থাকতে পারে।

বিক্ষোভ কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেটে প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বলে হেনগাও, স্থানীয় বাসিন্দারা ও ইন্টারনেট বন্ধ করার বিষয়টি পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী নেটব্লকস জানিয়েছে।

আন্দোলনকারীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলা আন্দোলন দমনে অভিযান চালানোর আগেও সরকার একইরকমভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল। সরকারি ওই দমন অভিযানে দেড় হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল বলে তখন রয়টার্স খবর দিয়েছিল।

নেটব্লকস ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইরান সচরাচর যে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার অনুমতি দেয় ও যেটির লাখ লাখ অনুসারি আছে সেই ইনস্টাগ্রামে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং কিছু মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা হয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক