ফের বিস্ফোরণে কাঁপল রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রাইমিয়া

ইউক্রেইন যুদ্ধে রসদ সরবরাহের লাইন হিসেবে ক্রাইমিয়াকে ব্যবহার করছে মস্কো; সম্প্রতি সেখানে একাধিক ‘নাশকতা’ রাশিয়ার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 August 2022, 12:13 PM
Updated : 16 August 2022, 12:13 PM

একাধিক বিস্ফোরণ রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রাইমিয়ার একটি গোলাবারুদের ডিপোকে কাঁপিয়ে দিয়েছে এবং কয়েকটি ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তারা।

ইউক্রেইন যুদ্ধে রসদ সরবরাহের লাইন হিসেবে ক্রাইমিয়াকে ব্যবহার করছে মস্কো; সম্প্রতি সেখানে একাধিক ‘নাশকতা’র ঘটনা ঘটেছে, যা রাশিয়ার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ক্রাইমিয়ায় মস্কোর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি সের্গেই আকসিওনভ মঙ্গলবারের বিস্ফোরণে দুইজন আহত, ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন এবং সামরিক ওই ডিপোর নিকটবর্তী একটি গ্রাম থেকে প্রায় দুই হাজার জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

তবে বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে কিছু বলেননি তিনি।

ইউক্রেইন স্পষ্ট করে কিছু না বললেও, বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছে। এমনটা হয়ে থাকলে তা রুশ ভূখণ্ডের ভেতরে ইউক্রেইনের হামলা চালানোর সক্ষমতার নতুন প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে; এমনটা ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষ্ণ সাগরে অবস্থিত ক্রাইমিয়া উপদ্বীপটি রাশিয়া ২০১৪ সাল থেকেই তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনও রাশিয়ার এই অধিগ্রহণকে স্বীকৃতি না দিলেও সেখানেই তাদের কৃষ্ণসাগর নৌবহরের ঘাঁটি; গ্রীষ্মকালে ছুটি কাটানোর স্থান হিসেবেও এটি অনেক রাশিয়ানেরই পছন্দ।

কয়েকদিন আগেই একাধিক বিস্ফোরণ ক্রাইমিয়ার পশ্চিম উপকূলের একটি সামরিক ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষতি করেছে এবং কয়েকটি যুদ্ধ বিমান ধ্বংস করেছে। মস্কো একে দুর্ঘটনা হিসেবে অভিহিত করলেও উপগ্রহের ছবিতে বিস্ফোরণের কারণে ঘাঁটিতে সৃষ্ট একাধিত গর্ত দেখা গেছে।

মঙ্গলবারের ঘটনায় দিঝানকোই শহরের কাছে একটি বিদ্যুতের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলেও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখানো হয়েছে। ভিডিওতে একাধিক বড় বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এসব শব্দ গোলাবারুদ বিস্ফোরণের কারণে হয়েছে বলে বলছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএ ৭টি যাত্রীবাহী ট্রেনের দেরি এবং ক্রাইমিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি লাইনের একাংশে রেল চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে খবর দিয়েছে। রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় তা ইউক্রেইনে থাকা সেনাদের কাছে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর কাজে বিঘ্ন ঘটাবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

ক্রাইমিয়ায় বিস্ফোরণের সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে খোলাখুলি কিছু না বললেও, মস্কোর মুঠোতে থাকা ‘তুলনামূলক নিরাপদ’ বলে বিবেচিত এই ভূখণ্ডে যেকোনো ‘নাশকতার’ ঘটনায় ইউক্রেইনের কর্মকর্তাদের উল্লাসিত হতে দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক টুইটারে খোঁচা মেরে বলেছেন, “স্মরণ করিয়ে দেওয়া দরকার, স্বাভাবিক সময়ে ক্রাইমিয়া হচ্ছে কৃষ্ণ সাগর, পাহাড়, অবসর উপভোগ আর পর্যটন; কিন্তু রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রাইমিয়া হচ্ছে অস্ত্রগুদামে বিস্ফোরণ আর দখলদার ও চোরদের জন্য মৃত্যুর মহাঝুঁকি। নিরস্ত্রীকরণ হচ্ছে।”

ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী তাদের ভাষায় ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরুর পর ইউক্রেইনের যেসব অংশ এরই মধ্যে দখলে নিয়ে নিয়েছে সেসব এলাকায় পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতিতে রাশিয়ার সরবরাহ লাইনে বিঘ্ন ঘটাতে চাইছে কিইভ।

বিমানঘাঁটির মতো মঙ্গলবার যে গোলাবারুদের ডিপোতে বিস্ফোরণ হয়েছে, তা ইউক্রেইনকে যেসব রকেট দেওয়া হয়েছে বলে পশ্চিমারা এতদিন ধরে প্রকাশ্যে জানিয়েছিল, তার পাল্লা থেকে বেশ দূরে।

এরপরও ক্রাইমিয়ার এসব বিস্ফোরণ যদি ইউক্রেইনের হামলায় হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে বোঝা যাবে কিইভ রুশ বাহিনীর ওপর হামলার নতুন সক্ষমতা অর্জন করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেইনে এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাঙ্গণে একের পর এক গোলা পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। উভয়পক্ষই এ জন্য একে অপরকে দোষী সাব্যস্তও করছে।

রাশিয়ার দখলে থাকলেও কেন্দ্রটি এখনও ইউক্রেইনের প্রযুক্তিবিদরাই পরিচালনা করছেন।

ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলছেন, রাশিয়া ঘাঁটিটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যে রুশ সেনারা ইউক্রেইনীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে, ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন।

আর রাশিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, ইউক্রেইনই পারমাণবিক স্থাপনাটিতে গোলা ছুড়ে যাচ্ছে। এর সপক্ষে তাদের টেলিভিশন ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি-ভিডিও’ও দিচ্ছে তারা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক