‘পারমাণবিক উপাদান পাচারের চেষ্টা করেছিল’ জাপানের মাফিয়া বস

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের পরমাণবিক অস্ত্রে ব্যবহার হবে বিশ্বাসে মিয়ানমার থেকে পারমাণবিক উপাদান পাচারের চক্রান্ত করেছিলেন তিনি।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Feb 2024, 06:43 AM
Updated : 22 Feb 2024, 06:43 AM

জাপানের কথিত অপরাধ চক্রের এক প্রধানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক উপাদান পাচারের চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তারা।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার মন্ত্রণালয় জানায়, জাপানের একটি অপরাধ চক্রের ওই প্রধান মিয়ানমার থেকে পারমাণবিক উপাদান পাচার করার চক্রান্ত করেছিলেন, এগুলো ইরানের পরমাণবিক অস্ত্রে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) প্রধান অ্যান মিলগ্রাম জানান, তাকেশি এবিসাওয়া (৬০) ও তার সহযোগী থাইল্যান্ডের নাগরিক সোমফোপ সিংগাসিরি (৬১) মাদক, অস্ত্র ও পারমাণবিক উপাদান পাচার করতেন।

“তারা এতদূর অগ্রসর হয়েছিল যে ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য ব্যবহার করতে পারবে এমন পরিপূর্ণ প্রত্যাশা নিয়ে তারা ইউরেনিয়াম ও অস্ত্রে ব্যবহারযোগ্য প্লুটোনিয়ামের প্রস্তাব দিয়েছিল,” বলেন মিলগ্রাম।

উভয় ব্যক্তিকে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়; খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

তবে এবিসাওয়া ও সিংগাসিরি ২০২২ থেকেই আরেক অভিযোগে নিউ ইয়র্কের কারাগারে আটক আছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল ম্যাথিউ ওলসেন জানান, এবিসাওয়া অস্ত্রে ব্যবহার উপযোগী পারমাণবিক উপাদান ও প্রাণঘাতী মাদকদ্রব্য বিক্রি করার এবং মিয়ানমারের একটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হয়ে সামরিক অস্ত্রশস্ত্র কেনার চক্রান্তের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।

২০২২ সালে এই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আরও বিস্তৃত তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগগুলো আনা হয়েছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবিসাওয়া ইয়াকুজা নামে পরিচিত জাপানি অপরাধী চক্রের জ্যেষ্ঠ সদস্য, তিনি দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরিচালিত পাচার কাজ তত্ত্বাবধান করতেন।

২০২২ সালে থাইল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ছদ্মবেশধারী এক গোয়েন্দার কাছে পারমাণবিক উপাদান বিক্রির চেষ্টা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন তিনি। ওই গোয়েন্দা ইরানের এক জেনারেলের সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে এমন একজন মাদক ও অস্ত্র পাচারকারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন।

এবিসাওয়া যে পারমাণবিক উপাদানগুলো স্যাম্পল হিসেবে দেখিয়েছিলেন তা মিয়ানমার থেকে এসেছিল। থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ সেগুলো জব্দ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে তদন্তকারীদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণাগার নিশ্চিত করে, উপাদানগুলোতে ইউরেনিয়াম ও অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার উপযোগী প্লুটোনিয়াম আছে।