গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ

সংস্থার মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফ্রাঞ্চেস্কা আলবানিজ বলেছেন, ইসরায়েল গণহত্যামূলক কার্যকলাপ চালিয়েছে বলেই তার বিশ্বাস।

নিউজ ডেস্ক
Published : 26 March 2024, 04:22 PM
Updated : 26 March 2024, 04:22 PM

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, তার বিশ্বাস গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে।

জেনিভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে বিশেষজ্ঞ ফ্রাঞ্চেস্কা আলবানিজের এ নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করার কথা রয়েছে মঙ্গলবারেই।

তবে ইসরায়েল এরই মধ্যে প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত একে গণহত্যা বিষয়ক কনভেনশনের আপত্তিকর বিকৃতি এবং ‘বাস্তবতার অশ্লীল বিকার’ বলে সমালোচনা করেছেন।

গাজায় যুদ্ধ থামানোর পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের আরও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকার মধ্যে গণহত্যা নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে।

গণহত্যা সুনির্দিষ্ট একটি আইনি পরিভাষা। আলবানিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এর কিছু বৈশিষ্ট্য পূরণ হয়েছে। অর্থাৎ, গাজায় চালানো গণহত্যামূলক কার্যকলাপ ‘গণহত্যা’ নির্ধারণের মাত্রায় পৌঁছেছে এমনটি বিশ্বাস করার যৌক্তিকতা আছে।

বিবিসি জানায়, বিশেষজ্ঞ আলবানিজ তার 'অ্যানাটমি অব এ জেনোসাইড' শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেছেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদেরকে একটি গোটা গোষ্ঠী হিসাবে কিংবা আংশিকভাবে ধ্বংস করার অভিপ্রায় নিয়ে কাজ করেছে। যেটি গণহত্যা কনভেনশনের মূল বৈশিষ্ট্য।

আলবানিজ বিশেষত, জাতিসংঘ গণহত্যা কনভেনশন (জেনোসাইড কনভেনশন) আইনের তিনটি ধারা ইসরাইল লঙ্ঘন করেছে বলে উল্লেখ করেছেন।

* গোষ্ঠীর সদস্যদেরকে হত্যা করা

* শারীরিক ও মানসিকভাবে গোষ্ঠীর সদস্যদের গুরুতর ক্ষতি করা

*গোষ্ঠীর অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করতে হিসাব-নিকাশ করে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের জীবনাচারের ওপর আঘাত হানা।

গাজায় ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৩২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গাজার জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতে বোমা হামলা এবং ত্রাণ প্রবেশে বাধা (যার কারণে জাতিসংঘের ভাষ্যমতে গাজা দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে)- এ সবই একটি গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার অভিপ্রায়ের প্রমাণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ আলবানিজ।

বহু নামকরা জাতিসংঘ ত্রাণ সংস্থাই সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গাজার কোনো জায়গা নিরাপদ নয়। সেখানকার মানুষজন এখন প্রাণীকে খাওয়ানোর খাবার খাচ্ছে কিংবা ঘাস খাচ্ছে। শিশুদেরকে অ্যানেসথেশিয়া ছাড়াই চিকিৎসা করা হচ্ছে।

সবগুলো ত্রাণসংস্থাই বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ ত্রাণ সরবরাহে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। ত্রাণ সরবরাহে জাতিসংঘ দেরি করছে বলে ইসরায়েলের তোলা অভিযোগ নিয়ে সন্দিহান অনেক দেশই।

তারপরও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ তার প্রতিবেদনে যে ভাষা ব্যবহার করেছে তা হয়ত অনেকেই পছন্দ করবে না। কিন্তু প্রতিবেদনে তিনি যা বলেছেন তাতে যুদ্ধে ইসরায়েলকে তাদের আচরণ পরিবর্তন করার জন্য আন্তর্জাতিক চাপে নতুন মাত্রা যোগ হবে।