১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১ কার্তিক ১৪৩৩

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান চীনের

আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করেন।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান চীনের

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 16 Oct 2026, 09:24 PM

Updated : 16 Oct 2026, 09:24 PM

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে জোর করে বসতি স্থাপন বন্ধ করতে বলেছেন এবং এমন পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তার কার্যালয় একথা জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করেন।

সেখানে তিনি মন্তব্য করেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যা ঘটছে তা এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার।

চীন দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সমর্থক এবং তারা সবসময়ই বলে এসেছে যে, দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানই হল সঠিক দিকনির্দেশনা।

চীন নিজেদেরকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও তুলে ধরছে।

২০২৩ সালে বহু বছরের শত্রুতার পর ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে চীন মধ্যস্থতা করেছিল।

আর এ বছরের শুরুর দিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যে যুদ্ধ চলছে, তা থামানোর (যুদ্ধবিরতি) জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে চীন চেষ্টা চালিয়েছিল।

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য চীনের মধ্যস্থতার চেষ্টা ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক ঐক্যে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।

২০২৪ সালে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ফিলিস্তিনের বিরোধী দলগুলো একসঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল। চুক্তির মূল কথা ছিল—ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে তারা পশ্চিম তীর ও গাজা চালানোর জন্য সবাই মিলে একটি অন্তর্বতী জাতীয় সম্প্রীতির সরকার গঠন করবে। তবে চুক্তিটি বাস্তবে কখনও কার্যকর করা হয়নি।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলছেন, সবচেয়ে প্রথম কাজ হল, গাজায় ঢোকার সব রাস্তা পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং মানবিক বিপর্যয় যেন আর বাড়তে না পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া।

তিনি বলেন, “চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনা এবং সংঘাতের একটি রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার জন্য কাজ করতে ইচ্ছুক।"

এক্স-এ একটি পোস্টে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হারজোগ বলেছেন, তিনি ওয়াংয়ের সঙ্গে দেখা করতে পেরে আনন্দিত। তাদের আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে ছিল।

তিনি লিখেছেন, “আমি আঞ্চলিক শান্তির জন্য ইসরায়েলের আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি আমাদের সুরক্ষায় কৌশলগত হুমকির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি, যার মধ্যে প্রথম এবং প্রধান হুমকি হল ইরান এবং তার সন্ত্রাসী সহযোগী গোষ্ঠীগুলো।