হুলিয়া মাথায় তিন দশকে ২৮ সিনেমায় অভিনয়

পালিয়ে থাকার সময়টায় হরিয়ানার ওই ব্যক্তি ট্রাক চালিয়েছেন, ধর্মীয় উৎসবে আশেপাশের গ্রামে দলবল নিয়ে গান গেয়ে বেড়িয়েছেন, সিনেমায় পুলিশের ভূমিকায় অভিনয়ও করেছেন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 August 2022, 02:40 PM
Updated : 5 August 2022, 02:40 PM

আশির দশকে সেনাবাহিনীতে থাকা অবস্থায় চুরি, ডাকাতি ও খুনের মত অপরাধে জড়িয়ে চাকরি খোয়ানোর পর গ্রেপ্তার এড়াতে নানা বেশে পালিয়ে বেড়িয়েছেন তিন দশক, শেষ পর্যন্ত সেই ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ভারতের হরিয়ানার পুলিশ জানতে পারল, নানা ভূমিকায় ওই ব্যক্তি নিয়মিত হাজির হচ্ছিলেন সিনেমার পর্দায়।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওম প্রকাশ ওরফে পাশা নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও কোনোমতেই তার হদিস পাচ্ছিল না পুলিশ। একাধিক মামলা মাথায় নিয়ে ছদ্মবেশে তিনি ৩০ বছর ধরে হরিয়ানার পাশের উত্তরপ্রদেশে পালিয়ে ছিলেন।

স্থানীয় এক নারীকে বিয়ে করে সেখানে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে। এমনকি সেখানকার বাসিন্দা হিসাবে যাবতীয় বৈধ কাগজপত্রও জোগাড় করে ফেলেছেন ৬৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি।

সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু এ সপ্তাহের শুরুতে তার সব কৌশল ভেস্তে যায়, গাজিয়াবাদ শহরের এক বস্তি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ বলছে, গত তিন দশকে পরিচয় লুকাতে প্রকাশ বিভিন্ন রকমের টুপি পরেছেন, ট্রাক চালিয়েছেন। ধর্মীয় উৎসবে আশেপাশের গ্রামে দলবল নিয়ে গান গেয়ে বেড়িয়েছেন, এমনকি পালিয়ে বেড়ানোর সময়টায় কম বাজেটের ২৮টি সিনেমায় অভিনয়ও করেছেন। এর মধ্যে পুলিশের চরিত্রও ছিল।

গ্রেপ্তারের পর ওম প্রকাশকে জেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

কিন্তু প্রকাশকে গ্রেপ্তার অভিযানে থাকা হরিয়ানা স্পেইশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) উপ-পরিদর্শক বিবেক কুমার বিবিসিকে বলেছেন, ১৯৯২ সালের একটি খুনের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বিবেক বলেন, “গ্রেপ্তারের দুদিন পর ওম প্রকাশ সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হন। আমি তার পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগের বিষয় এবং তাদের বক্তব্য শুনতে গিয়েছিলাম।

“বিশাল হারবনস নগর বস্তিতে সরু গোলকধাঁধাময় গলিগুলো কোনোকিছু দিয়ে চিহ্নিত করা নেই, বাড়ির নম্বরগুলো ক্রমানুসারে সাজানো নয়। গলি গলি ঘুরে তার বাড়ি পেতে আমার সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে।”

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তিনি প্রকাশের স্ত্রী রাজকুমারীর সঙ্গে দেখা করেছেন। রাজকুমারী তার ঘরে একটি হিন্দি সংবাদপত্র বের করে দেখিয়েছেন, যেখানে তার স্বামীর বিরুদ্দে যাবতীয় অভিযোগের খবর ছাপা হয়েছে।

প্রকাশের স্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা এখনও হতবাক। প্রকাশের ‘অপরাধের অতীত’ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না।

“আমি তাকে ১৯৯৭ সালে বিয়ে করি। কিন্তু তখন জানতাম না যে প্রকাশ এর আগে বিয়ে করেছিল এবং হরিয়ানায় সংসারও ছিল।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক