বাড়ছে বিক্ষোভ, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের সেনাবাহিনীর

ইরানের শাসকদের ভয়, মাশা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে অস্থিরতা ২০১৯ সালে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Sept 2022, 11:10 AM
Updated : 23 Sept 2022, 11:10 AM

পুলিশ হেফাজতে এক নারীর মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে এখন পর্যন্ত দেওয়া সবচেয়ে কঠোর সতর্কবার্তায় ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা ‘শত্রুদের মোকাবেলায়’ নামবে।

‘অনুপযুক্ত পোশাক’ পরার দায়ে গত সপ্তাহে নীতি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর ২২ বছর বয়সী মাশা আমিনির মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার তারা এ হুঁশিয়ারি দিল, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

“এ ধরনের মরিয়া কর্মকাণ্ড হচ্ছে ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে শত্রুদের শয়তানি কৌশলের অংশ। অন্যায়ভাবে আক্রমণের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিতে শত্রুদের বিভিন্ন চক্রান্ত মোকাবেলা করবো আমরা,” বলেছে ইরানের সেনাবাহিনী।

এর পাশাপাশি শুক্রবার সরকার সমর্থকদেরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।

জুমার নামাজের পর হতে যাওয়া সরকার সমর্থকদের এই বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে জনশক্তির আওয়াজ’ বলে অভিহিত করেছে।

মাশা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতা ২০১৯ সালে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভের পুনরুত্থান ঘটাতে পারে এমন ভয়ে আছে ইরানের শাসকরা।

সেবারের বিক্ষোভ-সহিংসতায় দেড় হাজার লোকের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল রয়টার্স।

পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যুকে ঘিরে এবারের বিক্ষোভে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা তেহরান ও আরও কয়েকটি শহরে যানবাহন ও থানা পুড়িয়ে দিয়েছে; অনেক জায়গাতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলাও হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমে বৃহস্পতিবার ২৮০ ‘দাঙ্গাকারীকে’ আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

আমিনির মৃত্যু নারীর পোশাক নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধসহ ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং নিষেধাজ্ঞায় ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ইরানিদের ক্ষোভ উসকে দিয়েছে।

আমিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে তেহরান গিয়েছিলেন। বিবিসি জানায়, হিজাব আইন ঠিকমত না মানার অভিযোগে নীতি পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর ডিটেনশন সেন্টারে তিনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান এবং কোমায় চলে যান।

মানবাধিকার বিষয়ে ইরানে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার নাদা আল-নাশিফ বলেন, তারা জানতে পেরেছেন নীতি পুলিশ আমিনির মাথায় লাঠি দিয়ে মেরেছে এবং তাদের একটি গাড়ির সঙ্গে আমিনির মাথা জোরে ঢুকে দিয়েছে।

নীতি পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য এইসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। তাদের দাবি, আমিনি ‘হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হন’।

তবে আমিনির পরিবার বলেছে, সে একেবারেই সুস্থ এবং সবল ছিল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক