আট ইরাকি ব্যাংকের উপর ডলার লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বাগদাদ সফরে যাওয়ার পর ইরাক সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রয়টার্স
Published : 5 Feb 2024, 01:04 PM
Updated : 5 Feb 2024, 01:04 PM

প্রতারণা, অর্থপাচার এবং মার্কিন ডলারের অন্যান্য অবৈধ ব্যবহার বন্ধে ইরাক সরকার দেশটির আটটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের উপর ডলার লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইরাক সফরে যাওয়ার পর দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থার রয়টার্স।

নিষেধাজ্ঞার আরোপ করা ব্যাংকগুলো তাই ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৈনিক ডলার নিলামে অংশ নিতে পারছে না। আমদানি নির্ভর দেশ ইরাকে নগদে ডলার পাওয়ার এটাই প্রধান উৎস।

ইরানে ডলার পাচার রোধে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আর চিরশত্রু দেশের হাতে ডলার পৌঁছানো রোধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ইরাক।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান চিরশত্রু দেশ হলেও উভয় দেশের সঙ্গে ইরাকের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ইরাকের এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারের রিজার্ভ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

ইরাক তেল থেকে নিজেদের রাজস্ব আয়ের জন্য ওয়াশিংটনের সদিচ্ছার উপর অনেক বেশি নির্ভর করে। সেই সঙ্গে তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থে নিজেদের প্রবেশাধিকার যাতে অবরুদ্ধ না হয় তার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করে চলতে হয়।

যে আটটি ব্যাংকের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তার একটি তালিকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকার একটি কপি রয়টার্সের হাতে পড়েছে এবং একজন কর্মকর্তা ওই তালিকার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে রয়টার্স থেকে ইরাকের প্রাইভেট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। যিনি নিজে নিষেধাজ্ঞায় পড়া তিনটি ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা ইরাকি আর্থিক ব্যবস্থাকে অপব্যবহার থেকে রক্ষা করতে ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত অব্যাহত পদক্ষেপের প্রশংসা করি, যার ফলে বৈধ ইরাকি ব্যাংকগুলি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং সম্পর্কের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংযোগ অর্জন করেছে।

Also Read: এবার ইয়েমেনে হুতি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

এর আগে গতবছর জুলাই মাসে ইরাক সে দেশের ১৪টি ব্যাংককের উপর ডলার লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ইরাকের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানে ডলার পাচার রোধেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

যেসব ব্যাংকের উপর ডলার লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তারা তাদের অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। এমনকি তাদের অন্যান্য দেশের মুদ্রার লেনদেনের অনুমতিও আছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নিষেধাজ্ঞা কর্মকর্তা ব্রিয়ান নেলসন বাগদাদে আসেন এবং দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

তার সফরের সময়ই আল-হুদা ব্যাংক এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যাংকটি ইরান সমর্থিক গ্রুপগুলোর কাছে কোটি কোটি মার্কিন ডলার পাচারে জড়িত আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়টার্সকে আরো বলেন, ওয়াশিংটন আশা করছে ইরাকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গ্রুপগুলোর কার্যক্রম বন্ধে ইরাক সরকার আরো সহায়তা করবে।

গত সপ্তাহে সিরিয়া সীমান্তের কাছে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪১ জন আহত হয়। ইরাকে অবস্থিত একটি সশস্ত্র দল ওই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের।

যে হামলার জবাব দিতে ইরাক ও সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত সশস্ত্র দলগুলোর ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।