স্যাটানিক ভার্সেস ‘পৃষ্ঠা দুয়েক’ পড়েছেন, রুশদি বেঁচে যাওয়ায় ‘বিস্মিত’ হামলাকারী

রুশদির ওপর হামলায় অভিযুক্ত হাদি মাতার ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে লেখকের বেঁচে যাওয়ায় ‘বিস্মিত’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 August 2022, 02:50 PM
Updated : 18 August 2022, 02:50 PM

লেখক সালমান রুশদির বিতর্কিত উপন্যাস ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ মাত্র পৃষ্ঠা দু’য়েক পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ওপরে হামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি হাদি মাতার। রুশদি বেঁচে যাওয়ায় বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন তিনি।

কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ছুরিকাঘাতের শিকার হন। এরপরই হাদি মাতারকে (২৪) আটক করে স্থানীয় পুলিশ।

হাদি মাতার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

বিবিসি জানায়, জেল থেকে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে রুশদির সমালোচনা করে হাদি মাতার বলেছেন, “তিনি এমন একজন মানুষ যিনি ইসলামকে আক্রমণ করেছেন।”

রুশদির স্যাটানিক ভার্সেস পড়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করা হলে হাদি বলেছেন, “আমি বইটির কয়েক পাতা পড়েছি। আমি তাকে একদম পছন্দ করি না। আমার মতে, তিনি ভাল মানুষ নন। তিনি ইসলামকে আক্রমণ করেছেন, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসে আঘাত করেছেন।”

১৯৮৮ সালে প্রকাশিত রুশদির উপন্যাস স্যাটানিক ভার্সেস বিশ্বজুড়ে বিতর্কের জন্ম দেয়। এই বইয়ে ধর্মাবমাননা করা হয়েছে অভিযোগে কিছু মুসলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এর পরের বছর অর্থাৎ, ১৯৮৯ সালে ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এই লেখকের মৃত্যুদণ্ডের ডাক দিয়ে ফতোয়া জারি করেন।

রুশদির ওপর হামলায় অভিযুক্ত হাদি মাতার ১৯৮৯ সালে খোমেনির ওই ফতোয়ায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন কিনা সে ব্যাপারে সাক্ষাৎকারে কিছু বলেননি। তিনি কেবল খোমেনির প্রশংসা করে বলেন, “আমি আয়াতুল্লাহ খোমেনিকে সম্মান করি। আমি মনে করি তিনি একজন মহান ব্যক্তি।”

ওদিকে, রুশদি একাধিক আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পর এখনও বেঁচে আছেন শুনে ‘বিস্মিত’ হয়েছেন বলেও নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানান হাদি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক