তুরস্কের ভূমিকম্প দুর্গত এলাকায় ভারি বৃষ্টি ও তুষারপাতের শঙ্কা

বৈরী আবহাওয়ায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Feb 2023, 02:22 PM
Updated : 6 Feb 2023, 02:22 PM

তুরস্কের ভূমিকম্প দুর্গত এলাকায় আগামী কয়েক দিনে ভারি বৃষ্টি ও তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে বিবিসি। সেখানে দিনের বেলা তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকবে এবং রাতের বেলা তা আরো কমে যেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

এমনকি ওই এলাকায় ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার গভীর তুষারে ঢেকে যেতে পারে। তুরস্কের উত্তরের পাহাড়ি এলাকায় আরো বেশি তুষারপাতের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। পাহাড়ে ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে।

তুরস্কে সোমবার স্থানীয় সময় ভোরে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রতিবেশী সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন এবং সাইপ্রাসও কেঁপে ওঠে।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর গাজিয়ানতেপের কাছে।

এদিন দুপুরে তুরস্কে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় আরেকটি ভূমিকম্প হয়। যেটির উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের কাহরামানমারাস প্রদেশের এলবিস্তান জেলা।

প্রথম ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়া মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৭ শ ছাড়িয়ে গেছে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানায় বিবিসি।

তুরস্কে প্রথম ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৮০০টি ভবন ধসে পড়েছে। যার অর্থ হাজার হাজার মানুষকে হাড় হিম করা ঠাণ্ডায় খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।

এর অবস্থায় যদি বৃষ্টি ও তুষারপাত শুরু হয় তবে সেটাও অনেক মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। কারণ, ভোররাতে যখন ভূমিকম্প শুরু হয়েছিল তখন মানুষজন প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি করে বাইরে বেরিয়ে যান। তাদের কারো কাছেই পর্যাপ্ত গরম কাপড় নেই।

সেখানে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংস্তূপের নিচে এখনো উদ্ধার কাজ চলছে।

বেঁচে যাওয়া অনেকে ধ্বংস্তূপের নিচ থেকে প্রিয়জনদের জীবিত উদ্ধারের আশায় অপেক্ষা করছেন।

দিয়ারবাকির শহরে এমনই একজন কুর্দি বয়স্ক নারী একটি ১২ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের কাছে অপেক্ষা করছেন। যে ভবনের নিচ তলায় তার পরিবার বসবাস করতো।

তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘‘তারা নিচতলায় ছিল, ঘুমাচ্ছিল। আমি জানি না তাদের কাছে কেউ পৌঁছাতে পারবে কিনা....যে পরিমাণ ঠাণ্ডা, আমার বাচ্চারা ধ্বংসস্তূপের নিচে জমে যাবে।”

এই শহরে অন্তত সাতটি ভবন ধসে পড়েছে। ৩৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।