ভারতে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্নব, উড়িষ্যায় রেড এলার্ট
দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি মূলত অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার কথা থাকলেও উড়িষ্যাজুড়ে দুর্যোগ নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে ধেয়ে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। আগামী বুধবার দুপুরে তাণ্ডব চালাবে ঝড়। তোলপাড় হবে উড়িষ্যা-অন্ধ্র উপকূল।
সেকারণে এরই মধ্যে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের বিশাল উপকূলীয় অঞ্চলে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা বা হাই-অ্যালার্ট। উড়িষ্যাজুড়ে ব্যাপক দুর্যোগ নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৫ জেলায় অতিরিক্ত ভারি বৃষ্টিপাতের (২০ সেন্টিমিটারের বেশি) আশঙ্কায় ‘রেড এলার্ট’ জারি করা হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ৬০-৭০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে।
অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আগামী ২৮ অক্টোবরে এই ঝড়ের তাণ্ডবের আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকি মোকাবেলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে উড়িষ্যা সরকার।
সব দুর্যোগ মোকাবেলা কর্মীর ছুটি বাতিল করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে উচ্চ সতর্কতাবস্থায় ২২৫টি উদ্ধারকারী দল মোতায়েনের পদক্ষেপ নিচ্ছে উড়িষ্যা।
ঘূর্ণিঝড়টি মূলত অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার কথা থাকলেও উড়িষ্যার দক্ষিণ ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। প্রচণ্ড গতিতে ঝোড়ো হাওয়া এবং প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে গোটা রাজ্যে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি বাসিন্দাদেরকে আশ্বস্ত করে নির্দেশ দিয়েছেন, জনগণের নিরাপত্তা এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার।
একটি প্রাণহানিও যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উড়িষ্যা প্রশাসন। ঝড়ের আগাম প্রভাবের কথা মাথায় রেখে আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর পাঁচ জেলায় সব স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাকি জেলাগুলির পরিস্থিতি দেখে সেখানকার জেলা শাসকরা ছুটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। জরুরি অবস্থা সামাল দিতে জেলা শাসক এবং সব শীর্ষ পদাধিকারী কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করে দ্রুত নিজ নিজ সদরে ফেরত যাওয়ার নির্দেশ জারি করেছে উড়িষ্যার সাধারণ প্রশাসন বিভাগ।
অন্ধ্র প্রদেশের ওপর দিয়ে অর্নব বয়ে গেলেও এরপরই বাঁক নেবে ঘূর্ণিঝড়টি। আর এই বাঁকেই বিপত্তি ঘটতে পারে পশ্চিমবঙ্গে।
বুধবার দুপুরে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়বে বছরের প্রথম এই ঘূর্ণিঝড়। বিশাখাপত্তনম ও বাপতলার মধ্যে ‘অর্ণব’ আঘাত হানবে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে।
অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় হিসাবেই স্থলভাগে ঢুকবে ‘অর্ণব’। যখন স্থলভাগে প্রবেশ করবে ঘূর্ণিঝড়টি, তখন অন্ধ্র উপকূলে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝড়।
আবহাওয়া ভবন জানিয়েছে, অন্ধ্র উপকূলের পর ডান দিকে বাঁক নেবে ‘অর্ণব’। এই ঘূর্ণিঝড়ের জেরে ভারি বৃষ্টি হবে পশ্চিমবঙ্গেও। মঙ্গলবার থেকেই বদলাবে আকাশ। ওইদিন থেকেই দক্ষিণ বাংলায় বৃষ্টি শুরু হবে।
বুধ-বৃহস্পতিবার উপকূল ও পশ্চিমাঞ্চলে ভারি বৃষ্টি হবে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। উপকূলে ঘণ্টায় ৫৫ কিমি বেগে দমকা বাতাস বইতে পারে। কলকাতা ও অন্যান্য জেলায় ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাস বয়ে যেতে পারে।
অর্নবের প্রভাবে তামিলনাড়ু এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পন্ডিচেরিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে টানা ভারি বৃষ্টি। তামিলনাড়ুর ৯ বন্দরে সতর্কসংকেত দেওয়া হয়েছে।
সমুদ্র সফরে থাকা সব জাহাজ, মৎস্যজীবী এবং বন্দর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে রেড বা ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করে সংকেত টাঙানো হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর দাপটে শনিবার রাত থেকেই পন্ডিচেরি ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে টানা বৃষ্টি হয়ে চলেছে।
বৃষ্টির জেরে পন্ডিচেরির বিভিন্ন এলাকায একাধিক রাস্তা ও জনবসতি অঞ্চল হাঁটু পানিতে ডুবে গেছে। পানিবন্দি মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর শক্তি যত বাড়বে, আগামী কয়েক দিনে তামিলনাড়ু ও পন্ডিচেরির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দুর্যোগের মাত্রা তত বাড়তে পারে।
