২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

গ্রিড বিপর্যয়: ‘ছয় ঘণ্টার বেশি’ বিদ্যুৎ বিভ্রাট, কারণ জানতে কমিটি গঠন

কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়, বলেছেন কর্মকর্তারা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Oct 2026, 09:08 PM

Updated : 27 Oct 2026, 09:11 PM

জাতীয় গ্রিডের একটি অংশে বিপর্যয়ের কারণে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় অংশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘট্না তদন্তে একটি কমিটি করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)।

কোম্পানিটি বলছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ বিপর্যয়ের পর সব এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনতে ‘ছয় ঘন্টারও বেশি’ সময় লেগে যায়।

এর প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় ঠিক করতে প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে পিজিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটের ঢাকার মেঘনাঘাট-হরিপুর সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে চট্টগ্রামেরও অনেক লাইন ট্রিপ করে। পরে বেলা ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সঞ্চালন লাইনের সব পয়েন্টে পুনঃসংযোগ চালু করা হয়।

তার আগে বেলা পৌনে ১টার দিকে ঢাকার পূর্ব অংশ এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ চলে যায়। এ সময় প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকেও বিদ্যুৎ ছিল না।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন, মহাখালী, মতিঝিল, মগবাজার, বনশ্রী, খিলগাঁও এলাকা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কবলে পড়ে।

চট্টগ্রামের কিছু অংশ এবং নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকাতেও একই সময়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে বেলা আড়াইটার দিকে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরতে শুরু করে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও পিজিসিবির কর্মকর্তা জানান, সঞ্চালন লাইনের বিভ্রাটের কারণে কয়েক মিনিটের মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়।

এসময় এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে নিয়োজিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও বন্ধে করে দেওয়া হয়।

বেলা আড়াইটা নাগাদ সঞ্চালন লাইন মেরামত করা গেলেও কেন্দ্রগুলো চালু করে সব এলাকায় বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনতে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে যায়।

পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বেলা ১১টায় ১৪ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট সরবরাহ করে লোডশেডিং ৩০০ মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল।

জাতীয় গ্রিডে ত্রুটির পর বেলা ১টায় চাহিদা ১০ হাজার মেগাওয়াটে নেমে আসে, আর তখন উৎপাদন নেমে যায়। বেলা ২টায় ১১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ৯ হাজার মেগাওয়াটে নামে। ফলে এই সময় ২ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট, এবং পরের ঘন্টায় তিন হাজার ৩০০ মেগাওয়াট এবং বিকেল ৪টায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখা দেয়।

এ বিষয়ে পিজিসিবির কোম্পানি সচিবালয়ের ব্যবস্থাপক এ বি এম বদরুদ্দোজা খান সাংবাদিকদের বলেন, সঞ্চালন লাইন ট্রিপ করার সময় সতর্কতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করা হয়েছিল। দুপুর আড়াইটা নাগাদ লাইনগুলো চালু করা হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে কেন্দ্রগুলো চালু করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় একটি অংশ প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকে।

তার আগে ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল সারা দেশে।

আগের খবর:

গ্রিড বিপর্যয়: ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু অংশ দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন