০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দুষলেন ভ্যান্স

এক্স-এ এক দীর্ঘ পোস্টে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট লেখেন, “আমাদের পরাজয়ের কারণ হল এই যুদ্ধ। গত রাতে প্রেসিডেন্ট নিজেও একথা বলেছেন।”

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দুষলেন ভ্যান্স

জে ডি ভ্যান্স। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 01:33 AM

Updated : 05 Nov 2026, 01:33 AM

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি এবং কংগ্রেসের দুই কক্ষ হাতছাড়া হওয়ার পেছনে সরাসরি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।

বুধবার এক্স-এ এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি লেখেন, “আমাদের পরাজয়ের কারণ হল এই যুদ্ধ। গত রাতে প্রেসিডেন্ট নিজেও একথা বলেছেন।”

আগামী ছয় বছরের জন্য সেনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর চড়া মূল্য দিয়ে যুদ্ধ চালানো কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল, তা নিয়ে দলকে খোলামেলা আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান তিনি।

ভ্যান্স উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্প ও তাকে ভোট দিয়েছিলেন, এবার তাদের অনেকেই মূলত চারটি কারণে ডেমোক্র্যাটদের বেছে নিয়েছেন:

১. ইরান যুদ্ধের অবসান

২. মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ

৩. ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া

৪. ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও সম্পর্কে পরিবর্তন আনা।

ভোটার উপস্থিতি কম হওয়াকে পরাজয়ের কারণ মানতে নারাজ ভ্যান্স। ফ্লোরিডার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, উপস্থিতি মূল সমস্যা ছিল না; আসল সংকট হল ২০২৪ সালে যারা তাদের ভোট দিয়েছিলেন, এবার ক্ষোভে তারাই ডেমোক্র্যাটদের বেছে নিয়েছেন।

একইসঙ্গে প্রচারের শেষভাগে দলের অর্থনৈতিক বার্তা যথেষ্ট জোরালো ছিল না বলেও স্বীকার করেন তিনি। ফক্স নিউজের উপস্থাপক র‍্যাচেল ক্যাম্পোস-ডাফির কূটনৈতিক সমাধানের প্রস্তাবকে সমর্থন জানান ভ্যান্স।

গত বসন্তে ভ্যান্স নিজেই সংঘাত অবসানে তেহরানের সঙ্গে মধ্যস্থতায় মার্কিন দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ভেস্তে যায়। ক্ষুব্ধ সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা ‘আমরা আগেই বলেছিলাম’ বলছেন, তারা ঠিকই বলেছিলেন; তবে সেই ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে সমমনা রিপাবলিকানদের আবার নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোতে বড় জয়ে সেনেটে ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ৫৪টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২৫১ থেকে ২৬৮টি আসনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যাচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প যে অভিযান শুরু করেছিলেন, চার-পাঁচ সপ্তাহের কথা থাকলেও তা নবম মাসে গড়িয়েছে।

এর জেরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং এখন পর্যন্ত ২৩ জন মার্কিন সেনা নিহত ও ৮৬৫ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচনের আগের দিনও হরমুজ প্রণালিতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত ৩ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ে এই ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেও নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক দাবি করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দিতে এই অভিযান আবশ্যক ছিল।

ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “যুদ্ধ তখনই শেষ হবে, যখন আমি বলব এটা শেষ।”