Published : 12 May 2026, 11:18 AM
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীকে তার পদত্যাগের দিনক্ষণ ঘোষণার আহ্বান জানানোর পর কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং ইংল্যান্ডে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবিতে দলের ভেতরই স্টারমারকে নিয়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সোমবার শাবানার নেওয়া অবস্থান মন্ত্রিসভায়ও যে ফাটল ধরেছে তা স্পষ্ট করেছে।
সরকার ও দলের ভেতর এমন তুমুল চাপের মুখেই মঙ্গলবার সকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে তার পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, জানিয়েছে বিবিসি।
ব্রিটিশ এ সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, মন্ত্রিসভায় শাবানার মতো অবস্থান নেওয়া সদস্যের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে দলের ভেতর তার ওপর চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
মন্ত্রিদের ৬ সহযোগী (পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি) হয় পদত্যাগ করেছেন, নয়তো স্টারমারকে তার পদত্যাগের সময়সীমা নির্ধারণের ডাক দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের ৭২ এমপিও প্রধানমন্ত্রীর সরে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ওপর এ চাপের মধ্যে লেবার পার্টিতে নতুন নেতা হতে ইচ্ছুকদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে।
দলটির ডানপন্থি অংশ থেকে ওয়েস স্ট্রিটিং-কে সম্ভাব্য প্রার্থী বিবেচনা করা হচ্ছে। এমপিদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় অ্যান্ডি বার্নহামের নামও ঘুরেফিরে আসছে। তবে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের এই মেয়র এখন পার্লামেন্টে না থাকায় অনেকে স্টারমারকে কয়েক মাস পর পদত্যাগ করতে বলছেন, যেন এর মধ্যে বার্নহামকে উপনির্বাচনে জিতিয়ে আনা যায়।
আরেকজন সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার বলেছেন, “দল হিসেবে আমাদের এর চেয়ে ভালো করতে হবে।”
তবে সবচেয়ে কড়া কথা বলেছেন এমপি জোনাথান হিন্ডার।
“কোনো প্রধানমন্ত্রী এভাবে টিকে থাকতে পারেন না। তিনি (স্টারমার) কখনোই নির্বাচনী সম্পদ ছিলেন না,” বলেছেন তিনি।
ইংল্যান্ডের এবারের স্থানীয় নির্বাচনে লেবাররা প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর হারিয়েছে। উত্থান ঘটেছে ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদী রিফর্ম ইউকে’র। এমনকি লেবারের ঘাঁটি বলে অনেক এলাকা গ্রিনদের পকেটেও চলে গেছে।
এখানেই শেষ নয়। ১৯৯৯ সালে সেনেদ প্রতিষ্ঠার পর ওয়েলসে প্রথমবার ক্ষমতা হারায় লেবাররা; স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্টেও তারা ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফল করে।
তবে এতকিছুর পরও ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ স্টারমার। নিজের ভুল স্বীকার করে নেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, যারা তার নেতৃত্ব নিয়ে সন্দিহান তাদেরকে তিনি ভুল প্রমাণ করবেন। তাছাড়া এ মুহূর্তে দায়িত্ব ছাড়লে ‘তা দেশকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে’ বলেও তার আশঙ্কা।
ডাউনিং স্ট্রিটের জন্য খানিকটা স্বস্তি হয়ে এসেছে এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্টের পিছু হটা। এ লেবার সাংসদ স্টারমারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছোড়ার ঘোষণা থেকে সরে এসে এখন সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়েছেন।
দল ও মন্ত্রিসভার ভেতর ক্রমবর্ধমান এ চাপ মোকাবেলা করে স্টারমারের টিকে থাকা বেশ কঠিনই হবে বলে মত অনেক বিশ্লেষকের।
তারা বলছেন, স্টারমারকে যেতেই হবে। কখন ও কীভাবে যাবেন, সেটাই প্রশ্ন।