ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে ইসরায়েলের হাইফায় নিহত ২, নিখোঁজ ২
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপাণাস্ত্রটিকে বাধা দিয়ে ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু এয়ার ডিফেন্স ব্যর্থ হয়।
ইসরায়েলের তৃতীয় বৃহত্তম শহর হাইফায় ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ২ জন নিহত হয়েছেন।
রোববারের এ ঘটনায় আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর ইসরায়েলি গণমাধ্যমের।
জরুরি পরিষেবার বরাত দিয়ে সোমবার টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুই ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর একই এলাকা লক্ষ্য করে চালানো আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন আহত ও ক্ষয়ক্ষতি আরও বিস্তৃত হয়।
ইসরায়েলের দমকল বাহিনী ও হোম ফ্রন্ট কমান্ড ফোর্সেস ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। সেখানে আরও দুজন আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে তারা। যে ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তারা আটকা পড়ে আছেন সেটি ধসে পড়ার ‘গুরুতর ঝুঁকির’ মুখে আছে।
দমকল বাহিনী জানিয়েছে, যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের মধ্যে একজন বৃদ্ধ ও অপর জন শিশু। নিহত বা নিখোঁজদের কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।
হাইফার বাসিন্দা ভেরেদ ওহানা ওয়াইনেট নিউজ সাইটকে বলেন, “এটি বিশাল বিস্ফোরণ ছিল, পাগলাটে বিস্ফোরণ। এটি পরিষ্কার সরাসরি আঘাত ছিল।”
তিনি জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি যেখানে আঘাত হেনেছে তার আশপাশের ভবনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর জানিয়েছে, কেন ক্ষেপণাস্ত্রটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি তা তদন্ত করে দেখছে তারা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপাণাস্ত্রটিকে বাধা দিয়ে ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু এয়ার ডিফেন্স সেটি করতে ব্যর্থ হয়। বাহিনীটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে ‘জটিল’ বলে বর্ণনা করেছেন। হামলার আগে হাইফায় সতর্কতা জানিয়ে বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি সাইরেনও বাজানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।
এরপর সোমবার ভোরের দিকে আরেকটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হাইফায় আঘাত হানে। এটি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহন করায় বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়।
জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, সোমবার সকালে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের শার্পনেল অন্তত ১৫টি এলাকায় আঘাত হেনেছে, এতে তেল আবিবে অন্তত একজন গুরুতর আহত আর আরেকজন সামান্য আহত হয়েছে।
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে রাতে আরও দুইবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এতে লাখ লাখ ইসরায়েলি দৌঁড়ে ভূগর্ভস্থ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়।
