Published : 14 Jan 2026, 09:55 PM
বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল বিরোধীদের ওপর দমনাভিযান জোরদার করতে মিশর, লেবানন এবং জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুড সংগঠনগুলোকে ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ট্রাম্প এর কয়েক সপ্তাহ আগেই এক নির্বাহী আদেশে এসব সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয় জর্ডান ও মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর লেবাননের ব্রাদারহুড সংগঠনকে আরও কঠোর ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ (এফটিও)-এর তকমা দিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসকে সমর্থন দেওয়া এবং‘মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার কারণেই মুসলিম ব্রাদারহুডকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “মুসলিম ব্রাদারহুডের বিভিন্ন শাখা নিজেদের বৈধ নাগরিক সংগঠন হিসেবে দাবি করলেও পর্দার আড়ালে তারা হামাসের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্পষ্টভাবে এবং উৎসাহের সঙ্গে সমর্থন করছে।”
মিশরীয় মুসলিম ব্রাদারহুডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সালাহ আবদেল হক এই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবল চাপ কাজ করেছে। এটি কোনও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন নয়।”
তিনি বলেন, “মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড সন্ত্রাসবাদে জড়িত থেকেছে, অর্থায়ন করেছে বা কোনও ধরনের মদদ দিয়েছে, এমন সব অভিযোগ আমরা অস্বীকার করছি।”
যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্তির ফলে মুসলিম ব্রাদারহুড সংগঠনগুলোকে যে কোনও ধরনের আর্থিক বা বস্তুগত সহায়তা দেওয়া বেআইনি হবে।
পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক লেনদেন বন্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে। লেবাননের সংগঠনের ক্ষেত্রে এফটিও তকমার কারণে এর সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ হবে।
১৯২৮ সালে মিশরের ইসলামি চিন্তাবিদ হাসান আল-বান্না মুসলিম ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তাদের শাখা আছে। রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনও রয়েছে।
গোষ্ঠীটি নিজেদের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বিশ্বাসী বলেই দাবি করে। লেবাননে মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখা আল-জামা আল-ইসলামিয়া দেশটির পার্লামেন্টেও প্রতিনিধিত্ব করে।
জর্ডানে মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ‘ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্ট’ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৩১টি আসন পেয়েছে। তবের আম্মান সরকার গতবছর নাশকতার একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সংগঠনটি নিষিদ্ধ করে।
মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড ২০১২ সালে দেশের একমাত্র গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসলেও এক বছরের মাথায় সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তিনি ২০১৯ সালে জেলেই মারা যান।
এরপর থেকেই মিশর সরকার সংগঠনটিকে নিষিব্ধ করেছে এবং কঠোর ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে। মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। কায়রোর মতে, এটি এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’।