চীনে লকডাউনে বন্দি কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে

চীনের অন্তত ৩০ অঞ্চলে আংশিক বা পূর্ণ লকডাউন চলছে এবং সেখানকার কোটি বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Sept 2022, 03:07 PM
Updated : 12 Sept 2022, 03:07 PM

চীন জুড়ে যেসব এলায় লকডাউন চলছে সেসব এলাকার বাসিন্দারা খাবার এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসের সংকটে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন।

বিবিসি জানায়, চীনের অন্তত ৩০ অঞ্চলে আংশিক বা পূর্ণ লকডাউন চলছে এবং সেখানকার কোটি কোটি বাসিন্দাকে ঘরের ভেতর অবস্থান করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

পশ্চিম শিনজিয়াংয়ের একজন বাসিন্দা বলেন, ‘‘১৫ দিন হল আমাদের আটা, চাল, ডিম শেষ হয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে থেকে আমাদের বাচ্চাদের জন্য দুধও ফুরিয়ে গেছে।”

আগামী অক্টোবরে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলন। তার আগে কোভিড-১৯ মহামারীর স্থানীয় সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটির প্রশাসন।

সরকারের ‘শূন্য কোভিড নীতি’র আওতায় যে এলাকায় করোনাভাইরাসের স্থানীয় সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে, সেখানেই কঠোর লকডাউন জারি করা হচ্ছে। এমনকী যদি হাতেগোণা কয়েকজন সংক্রমিত হওয়ার খবর পাওয়া যায় তখনও।

সোমবার চীন জুড়ে ৯৪৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ আটকাতে সরকার বাড়াবাড়ি রকম কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে অভিযোগ উঠছে এবং জনমনে এ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে।

চীনে সরকারের কোনও নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে খুব একটা কথা বলতে দেখা যায় না বা দেওয়া হয় না। কঠোর লকডাউনের কারণে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করছেন।

বিবিসি জানায়, কাজাখস্তান সীমান্তবর্তী চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল শিনজিয়াংয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে লকডাউন চলছে। খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় সেখানকার বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহায়তা চাইছেন।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উইঘুর সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি কান্নাভেজা চোখে বলছেন, তার তিন সন্তান তিনদিন ধরে অনাহারে রয়েছে।

ইলি প্রদেশের রাজধানী ইয়েনিং সিটির একটি নথি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে খাবার, ওষুধ ও স্যানিটারি প্যাড চেয়ে তিনশ’টির বেশি আবেদন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করে এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘আমার হাতে জিনিস কেনার মত অর্থ নেই। আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, আমার আরও দুটি বাচ্চা আছে। আমার গ্যাসও ফুরিয়ে গেছে। স্ত্রীকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়াও প্রয়োজন।”

শিনজিয়াং প্রদেশে হান চীনা, কাজাখ এবং উইঘুররা বসবাস করেন।

এ মাসের শুরুতে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন সরকার শিনজিয়াং প্রদেশে উইগুর এবং অন্যান্য মূলত মুসলমান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে’।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি, চীন সরকার ১০ লাখের বেশি উইঘুরকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বন্দি করে রেখেছে।

আর বেইজিং বলছে, সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশে তারা বিভিন্ন ক্যাম্পে লোকজনদের এনে নানা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

শিনজিয়াং ছাড়াও দক্ষিণ-পশ্চিম গুইঝৌ প্রদেশের রাজধানী গুইইয়াংয়ের কাছের একটি এলাকায় কোনোরকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই লকডাউন জারি করা হলে সেখনকার প্রায় পাঁচ লাখ বাসিন্দা ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। এজন্য তারা কোনও ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ পাননি।

গার্ডিয়ান প্রত্রিকার খবর অনুযায়ী, লোকজন যেন ভবন ছেড়ে বের হতে না পরেন তাই কর্তৃপক্ষ ভবনের লিফ্ট বন্ধ করে দিয়েছে।

চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইবোতে একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘‘আমরা অনলাইনেও জিনিস কিনতে পারছি না। কারণ, তারা ডেলিভারি দিতে পারে না। সুপারমার্কেটও বন্ধ। সরকার কী আমাদের সঙ্গে পশুর মত ব্যবহার করতে চাইছে, নাকি তারা চাইছে আমরা মরে যাই?”

লকডাউন চলা অন্যান্য এলাকায়ও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক