১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মুম্বাইয়ে চীনা কনস্যুলেটের সামনে তিব্বতি বিক্ষোভ, কয়েকজন শরণার্থী আটক

দক্ষিণ মুম্বাইয়ের নারিম্যান পয়েন্ট এলাকায় এই বিক্ষোভ ভারতের মহারাষ্ট্র এবং অন্যান্য এলাকার তিব্বতি শরণার্থী বসতি থেকে আসা অনেক শরণার্থী অংশ নেয়।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2026, 08:52 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

চীনের নতুন ‘জাতিগত ঐক্য ও প্রগতি উন্নয়ন আইন’-এর প্রতিবাদে ভারতের মুম্বাইয়ে চীনা কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ করেছে তিব্বতি সম্প্রদায়।

সোমবার দক্ষিণ মুম্বাইয়ের নারিম্যান পয়েন্ট এলাকায় এই বিক্ষোভ চলার সময় পুলিশ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন তিব্বতি শরণার্থীকে আটক করেছে। তিব্বতি যুব কংগ্রেসের (টিওয়াইসি) সদস্য এবং সমর্থকদের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের কাছে জড়ো হয়।

তারা প্লাকার্ড বহন করছিল এবং আইনটির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের অভিযোগ, এ আইন তিব্বতের সাংস্কৃতিক, ভাষাগত এবং ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য গুরুতর হুমকি।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করেন। চীনা কনস্যুলেটের কাছে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদেরকে আটক করা হয়।

এই বিক্ষোভ ছিল চীনের নতুন আইনের বিরুদ্ধে তিব্বতি বিভিন্ন সংগঠন এবং তিব্বতি যুব কংগ্রেসের বিশ্বজুড়ে শুরু করা বৃহত্তর আন্দোলনেরই অংশ।

আইনটি চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে এবছর ১২ মার্চ গৃহীত হয় এবং ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। চীন আইনটিকে জাতিগত ঐক্য ও জাতীয় সংহতি শক্তিশালী করার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে।

তবে সমালোচকদের দাবি, এ আইন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে মূলধারার সঙ্গে একীভূত করার নীতি আরও জোরালো করতে পারে।

এক বিবৃতিতে, তিব্বতি যুব কংগ্রেস কয়েকটি দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমিক অনশন, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, জনসমাবেশ, সচেতনতা মূলক প্রচারণা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগসহ একগুচ্ছ সমন্বিত বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ঘোষণা দিয়েছে।

সংগঠনটি অভিযোগ করে বলেছে যে, নতুন চীনা আইনের উদ্দেশ্য হল- একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পরিচয়ের প্রচার চালানো, মানসম্মত ম্যান্ডারিন ভাষা ব্যবহারের প্রসার ঘটানো এবং ধর্ম, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতির ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর মাধ্যমে তিব্বতি এবং অন্যান্য জাতিগত সম্প্রদায়ের একীভূতকরণ ত্বরান্বিত করা।

মুম্বাইয়ের চীনা কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভে মহারাষ্ট্র এবং ভারতের অন্যান্য এলাকার তিব্বতি শরণার্থী বসতি থেকে আসা অনেক শরণার্থীও অংশ নিয়েছে। চীনের নতুন আইন তিব্বতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রাচীন রীতিনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ভারতের আরও কয়েকটি শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে তিব্বতি আন্দোলনকর্মীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চীনের আইনটি কার্যকর করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশর আহ্বান জানায়।

চীনের এই আইনে সবার জন্য একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষা ও জনজীবনে প্রচলিত মান্ডারিন ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং ধর্ম ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির ওপর রাষ্ট্রের তদারকি আরও বাড়ানো হয়েছে।