Published : 10 Mar 2026, 10:55 AM
ইরান মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ আটকে রাখলে দেশটির সঙ্গে যুদ্ধ আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, এমনকি সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে বলে অনুমান প্রকাশও করেছেন তিনি।
ইরানের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছে আর দেশটি শিগগিরই যুদ্ধ শেষ করার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না, এমনটি দেখার পর বৈশ্বিক আর্থিক বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতেই সোমবার ট্রাম্প ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন; জানিয়েছে রয়টার্স।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে আর যুদ্ধ চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে যে সময় নির্ধারণ করেছিলেন তার অনেক আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে।
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করতে চায় তাহলে হামলা আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
পুরো বিশ্বের জ্বালানি তেল সরবরাহের এক পঞ্চমাংশ পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযোগকারী ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ প্রণালিটি দিয়ে যায়। ইরানের হুমকির মুখে এই জলপথ ধরে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে আছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের এতো কঠিন আঘাত হানবো যে তাদের পক্ষে অথবা তাদের সাহার্য করা অন্য কারও পক্ষে বিশ্বের ওই অংশটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না।”
এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা যদি অব্যাহত থাকে তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ‘এক লিটার তেলও’ বাইরে যেতে দেবে না।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রেভল্যুশনারি গার্ডের এক মুখপাত্র বলেছেন, “একমাত্র আমরা এই যুদ্ধের শেষ নির্ধারণ করবো।”
যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে, ট্রাম্পের এমন অনুমান এবং রাশিয়ার জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা সম্ভাব্য শিথিল করার খবরের মতো পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিতে বিশ্ব বাজার চরম অস্থির হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেলে মূল্য চড়ছে আর শেয়ার বাজার মুখ থুবড়ে পড়ার পর আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, যা ‘রোলারকোস্টার মুভমেন্ট’ নামে পরিচিত।
শিয়া মুসলিমদের ধর্মীয় নেতা খামেনি (৫৬) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো ও তাদের বিস্তৃত ব্যাবসায়িক সাম্রাজ্যের মধ্যে খামেনির একটি শক্ত ভিত্তি আছে। কিন্তু ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করা ট্রাম্প খামেনির নির্বাচনকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেছেন।