Published : 28 Aug 2026, 11:56 AM
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যেই উত্তর আমেরিকার বিখ্যাত লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ রাখতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এনবিসি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, বেশ কিছু দিন ধরে কানাডাকে দেওয়া হুমকি ও কটাক্ষের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার এই পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ওভাল অফিসে আদেশে সই করার পর ট্রাম্প বলেন, “এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
নাম পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সব নথি ও কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “যাদের জানানোর প্রয়োজন ছিল, আমরা তাদের সবাইকে জানিয়েছি। যা যা করা দরকার, তার সবই আমরা করেছি।”
ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, লেকের গভীরতম অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার ভেতরে পড়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র এর বেশিরভাগ জলরাশির দাবিদার।
গ্রেট লেকস অঞ্চলের অন্যতম এই হ্রদের নাম বদলে কানাডাকে তিনি কী বার্তা দিতে চান, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “কোনো বার্তা নয়। আপনারা তো জানেনই, বাণিজ্যের দিক থেকে কানাডা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ঠকিয়ে আসছে।”
ট্রাম্প বলেন, “তারা কোনো কিছুর জন্য অর্থ দেয় না, আবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্যের মত সুবিধাও পেতে চায়, কিন্তু তারা তো কোনো অঙ্গরাজ্য নয়।”
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের কিছু সময় পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
তিনি বলেন, এই নামটির ইতিহাস কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র, উভয় দেশে প্রতিষ্ঠার চেয়েও পুরোনো।
কার্নি লেখেন, “লেক অন্টারিও নামটি এসেছে ওয়েনডাট ভাষার ‘অন্টারিও’ শব্দ থেকে, যার অর্থ ‘হ্রদটি সুন্দর, হ্রদটি বড়’। চারশ বছরের পুরোনো এই নামটি কানাডা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার অনেক আগে থেকেই প্রচলিত।”
তিনি বলেন, “আমরা জানি আমেরিকা পরিবর্তিত হচ্ছে, তাদের বাণিজ্য সম্পর্ক, পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ থেকে শুরু করে জলাশয়ের নামও বদলাচ্ছে। তবে কানাডার মানুষ বাস্তবতাকে চেনে, তাদের কাছে এটি অতীতেও ‘লেক অন্টারিও’ ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”
সপ্তদশ শতক থেকে পরিচিত এই হ্রদের নামানুসারেই কানাডার সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ অন্টারিওর নামকরণ করা হয়েছিল, যেখানে দেশটির রাজধানী অটোয়া ও সর্ববৃহৎ শহর টরন্টো অবস্থিত।
এর আগে গত বছর মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অফ আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, সামনে হয়ত আরও বড় কোনো নাম পরিবর্তন আসতে পারে।
তিনি বলেন, “লেক আমেরিকা করার চিন্তাটি আমি অনেক দিন ধরেই করছিলাম। আপনারা জানেন, আমরা মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে গালফ অফ আমেরিকা করেছি, যা এখন নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে।
“সুতরাং এখন আমাদের একটি উপসাগর ও একটি হ্রদ হল। এখন শুধু একটি মহাসাগর বাকি! হয়ত আটলান্টিক কিংবা প্রশান্ত মহাসাগরের নামও আমাদের বদলে ফেলতে হতে পারে, অথবা দুটোই বদলে ফেলব!”
তবে বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই আদেশের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
কানাডার মেরিটাইমবিষয়ক আইনজীবী মার্ক আইজাকস এনবিসি নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কানাডাসহ অন্য কোনো দেশে প্রভাব ফেলবে না।
কারণ দুই দেশের কোনো সরকারি কর্মকর্তারই এই হ্রদের নামকরণের ওপর একক অধিকার নেই।
আইজাকস বলেন, “আমেরিকানরা এটিকে যে নামে খুশি ডাকতে পারে; কিন্তু এটি লেক অন্টারিওই।”
এদিকে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকিকে উড়িয়ে দিয়ে কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেন, “আমরা সবসময় এ হ্রদকে ‘লেক অন্টারিও’ বলেই ডাকব। ব্যস, আর কোনো কথা নেই। আমাদের গ্রেট লেকস নিয়ে আমরা গর্বিত।”