১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৫০০০

দেশটির এক কর্মকর্তা ‘নিরীহ’ ইরানিদের প্রাণহানির জন্য ‘সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করেন।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Jan 2026, 04:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:35 PM

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ-সহিংসতায় অন্তত পাঁচ হাজার মানুষের প্রাণ গেছে, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় পাঁচশ সদস্য রয়েছে।

দেশটির কর্তৃপক্ষ মৃতের এ সংখ্যা যাছাই করেছে বলে সেখানকার এক কর্মকর্তার বরাতে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ওই কর্মকর্তা ‘নিরীহ’ ইরানিদের প্রাণহানির জন্য ‘সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ এবং সর্বাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে। এ অঞ্চলটিতে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয়; অতীতে বিভিন্ন অস্থিরতার সময়েও সেখানকার সহিংসতা ছিল সবচেয়ে তীব্র।

তিনি রোববার বলেন, “চূড়ান্ত মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে হচ্ছে না। সড়কে নামা বিক্ষোভকারীদের সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে ইসরায়েল এবং বিদেশে অবস্থানরত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।”

রয়টার্স লিখেছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার জন্য নিয়মিতই বিদেশি শত্রুদের দায়ী করে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল। এ ঘোর শত্রু গত জুন মাসে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ  শনিবার জানিয়েছিল, নিহতের সংখ্যা ৩,৩০৮ জনে পৌঁছেছে এবং আরও ৪,৩৮২টি ঘটনা পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা ২৪ হাজারের বেশি গ্রেপ্তারের ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে।

নরওয়েভিত্তিক ইরানি কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ চলাকালে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষগুলোর কিছু ঘটেছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি এলাকাগুলোতে।

বিবিসি লিখেছে, ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দ্রুত অবমূল্যায়নের ক্ষোভ থেকে ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসন অবসানের দাবিতে রূপ নেয়।