Published : 05 Sep 2026, 01:34 PM
ইউক্রেইনে চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে মস্কো ও কিইভ সফর করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রোববার তিনি এই দুই দূতের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এর আগে শনিবার ট্রাম্পের দূতরা মস্কো সফর করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন
বিবিসি লিখেছে, উইটকফ ও কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তিচুক্তির মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে যুদ্ধে লিপ্ত দুই পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব তারা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন।”
মার্কিন দূতদের সফরের আবহের মধ্যেই ইউক্রেইনে নতুন করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
কিইভে ইউক্রেইনের গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ-এর প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালায় একটি রুশ ড্রোন। তবে এই হামলায় কার্যালয়টি অক্ষত রয়েছে।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই হামলার ‘উপযুক্ত জবাব’অঙ্গীকার করেছেন।
শনিবার ইউক্রেইনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর কামিয়ানস্কেতে রাশিয়ার হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর গানঝা।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের মস্কো অবস্থানকালে রাশিয়ার আকাশসীমায় কোনো হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলেনস্কি। মার্কিন দূতদের কিইভ সফরের সময় ইউক্রেইনের আকাশসীমার ক্ষেত্রেও রাশিয়ার কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সফর নিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ আগাম কোনো ঘোষণা দিতে অসম্মতি জানিয়ে বলেন, “যখন এসব বৈঠক বা যোগাযোগ অনুষ্ঠিত হবে, তখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানাব।”
তবে রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি দলটি মস্কো ও কিইভ সফর করবে।
বৃহস্পতিবার এক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, একটি শান্তি চুক্তি অর্জনের ‘সুযোগ রয়েছে’।
তিনি বলেন, “প্রথমত, মস্কো ও কিইভকে নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসতে হবে।”
তবে ইউক্রেইনের কাছ থেকে আরও ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার দাবিসহ সর্বোচ্চ মাত্রার দাবিগুলো থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত পুতিন দেননি।
পুতিনের এসব শর্তকে কার্যত ‘আত্মসমর্পণ’ আখ্যা দিয়ে শুরু থেকেই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে কিইভ ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউক্রেইনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রাশিয়া।