Published : 31 Oct 2025, 11:37 AM
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ও পাপুয়া নিউ গিনির (পিএনজি) প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে ক্যানবেরায় প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছেন।
চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলীয়রা পাপুয়া নিউ গিনির সামরিক স্থাপনা এবং সেনাবাহিনীতেও কাজ করতে পারবে। পাপুয়া নিউ গিনির নাগরিকরাও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কাজ করতে পারবে।
তাছাড়া, দুই দেশের কোনোটি আক্রান্ত হলে একে অপরের সাহায্যে এগিয়েও আসতে পারবে এই চুক্তির অধীনে। দুই দেশের সরকারই বলেছে, তাদের বছরের পর বছরের মিত্রতা থেকেই এই চুক্তি করা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তির লক্ষ্য ওই অঞ্চলে চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব মোকাবেলা করা।
অস্ট্রেলিয়ার থিংক ট্যাংক লোয়ি ইন্সটিটিউটের অস্ট্রেলিয়া-পিএনজি নেটওয়ার্কের প্রকল্প পরিচালক অলিভার নোবেতাউ বলেছেন, এই চুক্তির ফলে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, চীন অন্যান্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে যে প্রবেশাধিকার পায় সেই একইরকম প্রবেশাধিকার তারা পাপুয়া নিউ গিনির অবকাঠামোয় পাবেনা।
চুক্তির আওতায় পাপুয়া নিউ গিনির ১০ হাজার নাগরিক অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীতে কাজ করতে পারবে এবং তাদের সেদেশের নাগরিক হওয়ারও সুযোগ থাকবে।
অস্ট্রেলিয়ার নিকটতম প্রতিবেশী পাপুয়া নিউ গিনি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে বৃহত্তম এবং সর্বাধিক জনবহুল দেশ।
চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ় করেছে এবং এখন এই অঞ্চলে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উপস্থিতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
অস্ট্রেলিয়া ও তার পশ্চিমা মিত্র, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, এই প্রভাব মোকাবেলায় উদ্যোগী হয়েছে।
২০২২ সালে বেইজিং সলোমন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি সই করে। ফলে দেশজুড়ে চীনা পুলিশ সদস্য মোতায়েন হয়েছে। ২০২৩ সালে আরও একটি পুলিশি সহযোগিতা চুক্তি করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে, গত ডিসেম্বরে ক্যানবেরা সলোমন দ্বীপপুঞ্জের পুলিশ বাহিনীতে ১৯০ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় ১২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় এবং একটি পুলিশ প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করে। একই ধরনের চুক্তি টুভালুর সঙ্গেও করেছে অস্ট্রেলিয়া।