১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বার্কশায়ার হাথঅ্যাওয়ের সিইও পদ ছাড়ছেন ওয়ারেন বাফেট

বিশ্বের অন্যতম ধনী হয়েও ৬৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাদামাটা এক বাড়িতে বসবাস করছেন।

বার্কশায়ার হাথঅ্যাওয়ের সিইও পদ ছাড়ছেন ওয়ারেন বাফেট
ওয়ারেন বাফেট। ফাইল ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 May 2025, 02:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:38 PM

এ বছরই বার্কশায়ার হাথঅ্যাওয়ের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ওয়ারেন বাফেট।

ওরাকল অব ওমাহা নামে পরিচিত এই অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী তার কোম্পানির বার্ষিক সভায় বলেছেন, তিনি ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেগ আবেলের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।

৯৪ বছর বয়সী বাফেট বলেন, “আমার মনে হয়- বছর শেষে গ্রেগের কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হওয়ার সময় হয়েছে।”

বিবিসি লিখেছে, টেক্সটাইল প্রস্তুতকারক হিসেবে ডুবতে বসা বার্কশায়ার হাথঅ্যাওয়েকে ১.১৬ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত করা বাফেটই সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে সফল বিনিয়োগকারী।

প্রায় ৪০ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে করতালি দেওয়ার পর তিনি মজা করে বলেন, “এই প্রবল উৎসাহকে দুইভাবে ব্যাখার অবকাশ রয়েছে।” 

নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওমাহায় শনিবারের কোম্পানির সভায় এ ধনকুবের বলেন, তার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কেবল তার দুই সন্তান হাওয়ার্ড ও সুসি বাফেট ওয়াকিবহাল।

এ ঘোষণা শুনে মঞ্চে বাফেটের পাশে বসা আবেলকে দৃশ্যত অপ্রস্তুত দেখা যায়।

গ্রেগ আবেল

গ্রেগ আবেল

বছর চারেক আগে আবেলকে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেছিলেন বাফেট, কিন্তু তিনি যে অবসরে যাবেন, সেই ইঙ্গিত তখন দেননি।

সভায় বাফেট বলেন, বার্কশায়ারের কোনো শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা তার নেই। বরং সেগুলো তিনি দান করে দেবেন। এসময় সবাই করতালি দেন।

বাফেটের এই ঘোষণার পর ব্যবসায় তার অবদানের প্রশংসা করে বিবৃতি দিয়েছেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অনেকে। 

অ্যাপল সিইও টিম কুক এক এক্স পোস্টে লিখেছেন, “ওয়ারেনের মতো কেউ কখনও ছিল না। তার জ্ঞানে অনুপ্রাণিত হয়েছে অগণিত মানুষ- আমিও তাদের একজন।

“তাকে জানতে পারা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৌভাগ্য। আর গ্রেগের হাতে দায়িত্ব দিয়ে ওয়ারেনের বার্কশায়ার ছেড়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে সঠিক সিদ্ধান্ত।”

বার্কশায়ার হাথঅ্যাওয়ে বীমা কোম্পানি গাইকো, ব্যাটারি প্রস্তুতকারক ডুরোসেল, চেইন রেস্তোঁরা ডেইরি কুইনসহ ৬০টিরও বেশি কোম্পানির মালিক। অ্যাপল, কোকা কোলা, ব্যাংক অব আমেরিকা, আমেরিকান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে তাদের বড় শেয়ার রয়েছে।

দাতব্য প্রতিষ্ঠানে শত শত কোটি ডলার দান করা বাফেট ব্লুমবাগের বিচারে বর্তমান বিশ্বের চতুর্থ ধনী ব্যক্তি। তার সম্পদের পরিমাণ ১৫৪ বিলিয়ন ডলার।

বিবিসি লিখেছে, তিনি মাত্র ছয় বছর বয়সে জীবনের প্রথম উপার্জন করেছিলেন। আর প্রথম শেয়ার কেনেন ১১ বছর বয়সে এবং প্রথম ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেন ১৩ বছর বয়সে। বিশ্বের অন্যতম ধনী হয়েও বাফেট ৬৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওমাহায় সাদামাটা এক বাড়িতে বসবাস করছেন।

কোম্পানির বার্ষিক সভার শুরুতে বাফেট তার দেশের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বিনিয়োগকারীদের বলেন, বাণিজ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নয়।

“আমার দৃষ্টিতে এটি একটি বড় ভুল- যখন আপনার বিরুদ্ধে ৭৫০ কোটি মানুষ অসন্তুষ্ট, আর ৩০ কোটি মানুষ কেবল গর্ব করে বেড়াচ্ছে যে তারা কতটা সফল হয়েছে।”

বাফেট বলেন, “বাকি বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য করার দিকে আমাদের নজর দেওয়া উচিত। আমরা যেটা সবচেয়ে ভালো করি, সেটাই করা উচিত এবং তারা (বাকি বিশ্ব) যেটা ভালো করে, সেটাই তাদের করা উচিত।”