Published : 10 Aug 2026, 11:49 PM
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন।
এতে বেশ কয়েকটি শহরে ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে দেশটির কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের শহর পেরেইরাতে। শহরের মেয়র মাওরিসিও সালাজার জানান, সেখানে ১৮ জন মারা গেছেন।
তাছাড়া, পাশের মানিজালেস শহরের মেয়র হোর্হে এদুয়ার্দো রোহাস তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন এবং বাকিদের মৃত্যু হয়েছে অন্য এলাকায়।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দরনগরী বুয়েনাবেঞ্চুরায় একটি ভবন ধসে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র লিজিয়া দেল কারমেন কর্দোবা। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন আটকা পড়েছেন।
অন্যদিকে, কলম্বিয়ার অন্যতম প্রধান শহর ক্যালিতে ২৫টিরও বেশি স্থাপনা ধসে পড়েছে এবং অন্তত ১২টি স্থানে জরুরি উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন মেয়র আলেহান্দ্রো। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি বোগোতা ও মেডেলিন শহর থেকে বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন।
ব্লু রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেয়র বলেন, “ধ্বংসস্তূপ থেকে ইতিমধ্যেই এক বৃদ্ধা ও এক বালিকাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও অনেকেই ভেতরে আটকা পড়ে আছেন।”
কলম্বিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে (১২৩৪ জিএমটি) এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। অন্যদিকে দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের স্বল্প জনবসতিপূর্ণ চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার অঞ্চলের কাছে।
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৯৬ কিলোমিটার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ সংস্থা জানিয়েছে, এতে সুনামির কোনও আশঙ্কা নেই।
চোকো প্রদেশের গভর্নর নুবিয়া কারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানান, প্রাদেশিক রাজধানী কিবদো-তে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অনেকে আহত হয়েছেন। তিনি অধিবাসীদের ভূমিকম্পের পরাঘাত সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভবনগুলোর অবকাঠামোগত ক্ষতি পরিদর্শনের জন্য পেরেইরা, মানিজালেস, কিবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাবেঞ্চুরা বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে কলম্বিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পে কলম্বিয়ার ৯টি বিভাগ এবং দেশের সবকটি (৩২টি) বিভাগীয় রাজধানীতে তীব্র কম্পন অনুভূত হয় এবং আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলার তাচিরা রাজ্য এবং বার্কিসিমেতো শহরেও কম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়েছেন রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে জোড়া ভয়াবহ ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড হয়েছিল ভেনেজুয়েলা, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন ছয় হাজারের বেশি মানুষ।