Published : 04 Apr 2026, 11:43 AM
ওমান পরিচালিত তিনটি ট্যাংকার, ফ্রান্স-মালিকানাধীন একটি কনটেইনার জাহাজ ও জাপানের মালিকানাধীন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী একটি নৌযান বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে বলে নৌচলাচলের ডিজিটাল তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের নৌযানগুলোর জন্য সঙ্কীর্ণ জলসীমাটি খোলা রাখার যে নীতি ইরান নিয়েছে, এটা তারই প্রতিফলন, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানো শুরু করার পর প্রথম দিকে প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধই করে দিয়েছিল তেহরান। পরে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই এমন নৌযানগুলোকে হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
বিশ্বের তেল ও গ্যাসের এক পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায় সেই প্রণালিতে নৌচলাচল শুরু হচ্ছে কিনা, সেদিকে তেল ও অন্যান্য পণ্য সংশ্লিষ্ট বাজার অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর তেল আবিব, হাইফাসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে এক ধুন্ধুমার যুদ্ধের সূচনা করে। এক মাস পেরনো এই সংঘাত এরই মধ্যে প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে না পারা ওয়াশিংটন এখন পরিস্থিতি সামলাতে ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর কথাও ভাবছে।
তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের ইউরোপীয় ও এশীয় মিত্রদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। ইরান এ প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে রাখায় তেলের দাম ক্রমশ বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাব পড়ে সার, খাদ্যসহ অন্যান্য পণেও।
গত কয়েক সপ্তাহে বেশকিছু ট্যাংকার ও কনটেইনার জাহাজ ইরানি ‘অবরোধ’ পার হতে পারলেও কিছুদিন ওই পথে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল একেবারেই বন্ধ ছিল।
বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের সিএমএ সিজিএম মালিকানাধীন একটি কনটেইনার জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেয়। সেদিনই ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেছিলেন, সামরিক অভিযান নয়, কেবল কূটনৈতিক প্রচেষ্টাতেই হরমুজ প্রণালি খোলা সম্ভব।
ফরাসী এ নৌযান ইরানের জলসীমায় ঢোকার আগে স্বয়ংক্রিয় পরিচিতিমূলক ব্যবস্থায় (এআইএস) গন্তব্যের জায়গায় ‘মালিক ফ্রান্স’ কথাটা লিখে ইরানি কর্তৃপক্ষকে তাদের জাতীয়তা সম্বন্ধে জানায়।
হরমুজ পাড়ি দেওয়ার সময় জাহাজটি তাদের এআইএস ট্রান্সপন্ডার (যার মাধ্যমে নৌযানের অবস্থান জানা যায়) বন্ধ রেখেছিল বলেই মনে হচ্ছে, কেননা সেসময় নৌযান-ট্র্যাকিংয়ে তাদের সঙ্কেত পাওয়া যাচ্ছিল না, বলছে রয়টার্স।
মেরিনট্রাফিক ও ব্রিটিশ এলএসইজি-র তথ্য বলছে, ওমান শিপিং ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বড় নৌযান ও একটি এলএনজি ট্যাংকারও বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগর থেকে বের হতে পেরেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার আগে ওমানই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করছিল। পরে তারা আলোচনা চলাকালে ইরানে হামলা চালানোর সমালোচনাও করে।
জাপানের মিতসুই ওএসকে লাইনস শুক্রবার জানায়, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) ট্যাংকার সোহার এলএনজি হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। ইরানে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটাই প্রথম জাপান সংশ্লিষ্ট নৌযান এবং প্রথম এলএনজিবাহী ট্যাংকার যা হরমুজ পাড়ি দিতে পারল।
সোহার এলএনজি কবে হরমুজ পার হয়েছে, এবং এজন্য কোনো দরকষাকষি করতে হয়েছে কিনা—এসব বিষয়ে মিতসুই ওএসকে’র মুখপাত্র রয়টার্সকে কিছু বলতে রাজি হননি। এই ট্যাংকারটির মালিকদের মধ্যে জাপানও রয়েছে।
শুক্রবার প্রথম প্রহর পর্যন্ত জাপানি কোম্পানির মালিকানাধীন বা পরিচালিত প্রায় ৪৫টি জাহাজ ওই অঞ্চলে আটকা পড়ে আছে, বলেছে জাপানের পরিবহন মন্ত্রণালয়।
মিতসুই-এর মালিকানাধীন তরলীকৃত পেট্রলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ট্যাংকার গ্রিন সানভিও শুক্রবার ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে উপসাগর অতিক্রম করেছে বলে নৌচলাচল সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে।
ভারতের পতাকাবাহী এ নৌযানটি তাদের গন্তব্যের জায়গায় ‘ভারতীয় জাহাজ ভারতীয় ক্রু’ লিখে রেখেছিল।
পানামার পতাকাবাহী বড় একটি গ্যাসবাহী নৌযানও একই পথ দিয়ে উপসাগর ছেড়েছে বলে নৌচলাচলের ডিজিটাল তথ্যে দেখা গেছে। নৌযানটি চীনের পথে রয়েছে।