২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজ খোলার ও যুদ্ধ শেষ করার ইরানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দেওয়ার কথা জাতিসংঘে বলেছে ইরান।

হরমুজ খোলার ও যুদ্ধ শেষ করার ইরানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

তেহরানে একটি পদযাত্রার সময় ইরানি মিলিশিয়া বাহিনীর (বাসিজ) সদস্যরা মোটরসাইকেলে চড়ে যাচ্ছেন। ফাইল ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Sep 2026, 11:59 PM

Updated : 26 Sep 2026, 11:59 PM

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি হরমুজ প্রণালি খোলার ও পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শেষ করার ইরানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান তাদের এই উদ্যোগটি কথা জানিয়ে বলেছিল, তারা তাদের প্রস্তাবগুলো কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছে। ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবগুলো মেনে নিলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি ফের উন্মুক্ত হতে পারে এবং সাত দিনের মধ্যে ওই অঞ্চলে সংঘাত বন্ধ হতে পারে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এর জবাবে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি, আমি তাদের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছি। তারা অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য একটি চুক্তি করতে চায়, কারণ তারা শোচনীয়ভাবে হারছে। আমরা দারুণভাবে জয়ী হচ্ছি।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “তারা একটি চুক্তি করতে চায় আর আমি মনে করি এটি ঠিক আছে, আমিও চুক্তি করতে পছন্দ করি। তারা যা করতে চায় তা হল, অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলতে চায়, কারণ তাদের অর্থ আসা বন্ধ হয়ে গেছে, কারণ তারা তাদের অর্থ পেতো হরমুজ প্রণালি থেকে।”

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের সূচনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর থেকে ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এর ফলে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

হরমুজ প্রণালি খুলতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তারপরও ট্রাম্প দাবি করেছেন, জলপথটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আছে।

ট্রাম্প ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, নাম উল্লেখ করা হয়নি এমন মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবর প্রথম জানিয়েছিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ট্রাম্পের শর্ত পূরণ করবে কি না তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান ছিলেন। ট্রাম্প তার কর্মীদের বলেছেন, তিনি মনে করেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে বোমা হামলা অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই দেখছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া ইরানের প্রস্তাবে লেবাননসহ সবখানে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, বন্দরগুলোর ওপর থেকে ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্ত রয়েছে।

এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ আলোচনা হচ্ছে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শুক্রবার বলেন, “চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা থাকলে এখনই সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।”

তিনি বলেছিলেন, ওয়াশিংটন সম্মত হলে সংঘাত থামার পর পারমাণবিক কর্মসূচিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট যৌথ বিষয়ে আলোচনায় বসতে পারে উভয় পক্ষ।

তবে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ শান্তি চুক্তি মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচি বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে ইরান কোনো ছাড় দেবে না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কিংবা তা দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে তেহরান নিজের অধিকারের বিষয়ে অটল থাকবে।

পুরানো খবর:

ইরানের শান্তি প্রস্তাব: ট্রাম্পের ‘প্রত্যাখ্যানের’ খবর, আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় তেহরান