২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের শান্তি প্রস্তাব: ট্রাম্পের ‘প্রত্যাখ্যানের’ খবর, আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় তেহরান

ইরান ট্রাম্পের শর্ত পূরণ করবে কি না তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান।

ইরানের শান্তি প্রস্তাব: ট্রাম্পের ‘প্রত্যাখ্যানের’ খবর, আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় তেহরান

তেহরানে এক শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে মোটরসাইকেলে মহড়া দিচ্ছেন আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

Published : 26 Sep 2026, 11:08 AM

Updated : 26 Sep 2026, 11:22 AM

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালির নৌঅবরোধ তুলে নেওয়ার যে প্রস্তাব ইরান দিয়েছে তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

রয়টার্স লিখেছে, এ খবর প্রকাশ পেলেও ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইরান এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানায়। দেশটি বলেছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে কৌশলগত জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়া ও সাত দিনের মধ্যে অঞ্চলটিতে সামরিক সংঘাত বন্ধ করা সম্ভব।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শুক্রবার বলেন, “চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা থাকলে এখনই সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।”

তিনি বলেন, ওয়াশিংটন সম্মত হলে সংঘাত থামার পর পারমাণবিক কর্মসূচিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট যৌথ বিষয়ে আলোচনায় বসতে পারে উভয় পক্ষ।

তবে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ শান্তি চুক্তি মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচি বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে ইরান কোনো ছাড় দেবে না।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা কিংবা তা দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে তেহরান নিজের অধিকারে অটল থাকবে।

ইরানের দেওয়া এ প্রস্তাবে লেবাননসহ সবখানে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, বন্দরগুলোর ওপর থেকে ওয়াশিংটনের নৌঅবরোধ প্রত্যাহার, আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্ত রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ট্রাম্পের শর্ত পূরণ করবে কি না তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান। ট্রাম্প তার কর্মীদের বলেছেন, নতুন করে বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই তিনি দেখছেন।

তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই খবরের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত সাত মাসে গড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ও অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার ভোরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচলে ইরান ও ওমানের মধ্যকার বোঝাপড়ার বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানকে অবহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি।

এ কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং খামিস মুশাইত এলাকা লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

রিয়াদ অভিমুখী দুটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝপথেই গুলি করে ধ্বংস করার কথা দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

হুতিদের লোহিত সাগরের নৌঅবরোধ এবং ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে আঞ্চলিক মিত্ররা।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে শুক্রবার রিয়াদে ত্রিদেশীয় বৈঠকে মিলিত হন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা। সেখানে যৌথ সামরিক সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে আলোচনা হয়।

এদিকে ইয়েমেনে সহিংসতা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরির হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

সংস্থাটি জানায়, যুদ্ধের প্রভাবে ইয়েমেনি শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।