Published : 02 Aug 2026, 03:19 PM
ফিলিস্তিনের খ্রিষ্টান যাজক মান্থার আইজ্যাক যিশুর শিক্ষা প্রচার করেন, নিজের জীবনেও তার চর্চা করেন। কিন্তু ইদানিং তার মনে হচ্ছে, যিশুর জন্ম ও মৃত্যুস্থানগুলোর ভবিষ্যতই হয়ত আগামীতে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।
তার ভাষ্য, এর পেছনে কেবল ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের সংঘাতই দায়ী নয়, বরং পশ্চিমা খ্রিষ্টানের কিছু কর্মকাণ্ডও এর জন্য বহুলাংশে দায়ী।
ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের নিত্যদিনের দুর্দশা, তাদের কষ্ট আর উপলব্ধির কথা এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। সেখানে বলা হয়েছে, তিন ধর্মের মানুষের পবিত্র নগরী জেরুজালেমে খ্রিষ্টানরা প্রায় প্রতিদিনই কট্টর ইহুদিদের মৌখিক ও শারীরিক হামলার শিকার হচ্ছেন।
আইজ্যাকের উপলব্ধি, ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের অস্তিত্ব ও অভিজ্ঞতা মার্কিন ইভাঞ্জেলিক্যালদের (পশ্চিমা ধর্মযাজক ও তাদের অনুসারী সম্প্রদায়) যেন চোখেই পড়ে না। এই ইভাঞ্জেলিক্যালরা পবিত্র ভূমি পুরোপুরি ইহুদিদের হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষে।
ফাদার মুনথের আইজ্যাক বলেন, শৈশবে যেখানে তিনি খেলাধুলা করতেন, বেইত সাহুরের আশপাশের সেই জমির বড় অংশ এখন ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা দখল করে নিয়েছে
মার্কিন ইভাঞ্জেলিক্যালদের প্রতি বেথেলহেম ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস-এর পরিচালক আইজ্যাক এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের শেষ খ্রিষ্টান অধ্যুষিত শহর তায়বেহর ফাদার বাশার ফাওয়াদলেহর আহ্বান— “আপনারা এখানে আসুন, দেখুন।”
আইজ্যাক বলেন, "আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, পশ্চিমা ধর্মযাজক ও সাধারণ খ্রিষ্টানরা যখন ফিলিস্তিনে আসেন, যখন তারা বর্ণবাদী বিভাজনের দেয়াল ও অবৈধ বসতিগুলো স্বচক্ষে দেখেন এবং নিজভূমে টিকে থাকার জন্য সংগ্রামরত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন, কেবল তখনই তারা বাস্তবতা বুঝতে পারেন।”
আইজ্যাক ও ফাওয়াদলেহ মূলত সেই সব ইভাঞ্জেলিক্যালদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চান, যারা 'খ্রিষ্টান জায়নবাদ' নামের এক বিস্তৃত আন্দোলনের অনুসারী। এই মতবাদের অনুসারীরা আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা হিসেবে দেখেন।
কিন্তু ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান নেতাদের ভাষ্য, এই উগ্র মতবাদ ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অস্তিত্বকে পুরোপুরি অস্বীকার করে এবং প্রতিবেশীকে ভালোবাসার যে খ্রিষ্টীয় চেতনা, তার সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।
আইজ্যাক বলেন, "ধর্মতত্ত্বকে এখন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওইসব খ্রিষ্টানরাই আজ আমাদের নিজের ভূমিতে টিকে থাকার পথে সবচেয়ে বড় হুমকির (ইহুদি বসতি) পেছনে অর্থায়ন করছে, সমর্থন জোগাচ্ছে।"
ফাদার বাশার ফাওয়াদলেহ বলছেন, পশ্চিম তীরের খ্রিষ্টান অধ্যুষিত শহর তাইবেহ ছেড়ে চলে গেছেন অনেক ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান
নতুন হুমকির মুখে প্রাচীন সম্প্রদায়
৪৭ বছর বয়সী আইজ্যাকের জন্ম বেথেলহেমের কাছের খ্রিষ্টান শহর বেইত সাহুরে। ছোটবেলায় তিনি যেখানে খেলাধুলা করতেন, তার বেশিরভাগ এলাকা এখন ইসরায়েলি ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের দখলে চলে গেছে।
তিনি আর আগের মত বেথেলহেমের বাড়ি থেকে কয়েক মাইল হেঁটে জেরুজালেমের প্রাচীন গির্জায় যেতে পারেন না। কারণ পশ্চিম তীরের এই শহরটি এখন ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলের তৈরি ২৬ ফুট উঁচু বিশাল এক দেয়াল।
গত এক বছরে ফিলিস্তিনি ভূমিতে অবৈধ বসতি নির্মাণে সমর্থন আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েল। এর ফলে অনেক ফিলিস্তিনি মুসলমান বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়েছেন। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার খ্রিষ্টান আরও বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
ফাদার ফাওয়াদলেহ জানান, গত তিন বছরে ৯০ জনের বেশি খ্রিষ্টান তায়বেহ শহর থেকে চলে গেছেন। বাইবেলে তায়বেহ শহরের বর্ণনা রয়েছে 'ইফ্রয়িম' নামে।
পশ্চিম তীরে এটাই এখন সম্পূর্ণ খ্রিষ্টান অধ্যুষিত একমাত্র শহর। সেখানে এখন বসবাস করছেন প্রায় ১,২০০ মানুষ, তবে এই সংখ্যা দিন দিন কমছে।
ফাওয়াদলেহ জানান, তার চার্চের সদস্যরা এখন নিজেদের জলপাই বাগান থেকে ফসল তুলতেও ভয় পান।
অন্যদিকে, তায়বেহর ঠিক বাইরে একটি সিমেন্ট কারখানার মালিক রোল্যান্ড বাসির জানান, প্রায় প্রতিদিনই বসতি স্থাপনকারীরা তার কারখানায় হামলা চালায়।
তিনি বলেন, “সুযোগ পেলে আমি এই শহর ছেড়ে চলে যেতাম, কারণ এখানে আমার বা আমার সন্তানদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।”
তহবিল ও মতাদর্শ
ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান নেতাদের সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে এই অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে মার্কিন 'খ্রিষ্টান জায়নবাদীদের' নৈতিক ও আর্থিক সমর্থন।
গত জানুয়ারিতে জেরুজালেমের গির্জাগুলোর প্রধানরা একটি যৌথ বিবৃতি দিয়ে এই মতাদর্শকে 'ক্ষতিকর' আখ্যা দিয়েছিলেন।
খ্রিষ্টান জায়নবাদীরা পবিত্র শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে দাবি করে থাকেন, পবিত্র ভূমিজুড়ে ইহুদিদের বসবাস যিশুর দ্বিতীয় আগমন এবং পৃথিবীর সমাপ্তিকে ত্বরান্বিত করবে।
ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে সহায়তা দিয়ে আসা সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইভাঞ্জেলিক্যাল গ্রুপ ক্রিশ্চিয়ানস ইউনাইটেড ফর ইসরায়েল (সিইউএফআই) এবং ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েলি কমিউনিটিস (সিএফওআইসি)। আর এ কাজটি তারা করছে পবিত্র গ্রন্থের দোহাই দিয়ে।
সিএফওআইসি বলছে, তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ৮০টি ইসরায়েলি ‘সম্প্রদায়কে’ সমর্থন করে, যেগুলোকে তারা বাইবেলে বর্ণিত 'জুডিয়া ও সামারিয়া' বলে ডাকে। নিজেদের ওয়েবসাইটে তারা সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “উদার হস্তে দান করুন, যাতে বাইবেলীয় ইসরায়েলের সম্প্রদায়গুলো বিকশিত হতে পারে।”
সিএফওআইসির মার্কিন কার্যালয়ের পরিচালক কিম্বার্লি ট্রুপ অবশ্য সিএনএনকে বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে নয়, ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানরা বেথলেহেম ছেড়েছেন মুসলিমদের কারণে।
সিএনএনকে এক ইমেইলে তিনি লিখেছেন: “খ্রিষ্টান জায়নবাদ হল বাইবেলে নিহিত বাইবেলীয় বিশ্বাসের একটি প্রামাণ্য রূপ, যা খ্রিষ্টান হিসেবে আমরা ঈশ্বরের বাণী বলে বিশ্বাস করি। একজন খ্রিষ্টান জায়নবাদী হওয়ার অর্থ বাইবেলে বর্ণিত ঈশ্বরের বাণী অনুসরণ করা, যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি ইসরায়েলের ভূমি ইহুদিদের দিয়েছেন।”
অন্যদিকে আইজ্যাকের যুক্তি, ইভাঞ্জেলিক্যালদের ওই বিশ্বাস বাস্তবতাকে স্বীকার করে না, কারণ এই ভূমি ইতোমধ্যেই খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের আবাসস্থল।
“ওই খ্রিষ্টানরাই (জায়নবাদী) আজ এ ভূমিতে আমাদের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিতে অর্থায়ন ও সমর্থন জোগাচ্ছে। এটাই প্রমাণ করে যে, আমাদের কথা তাদের পরিকল্পনায় নেই। তারা আমাদের নিয়ে ভাবে না। তারা আমাদের চোখে দেখতে পায় না।”
সিএনএন লিখেছে, আইজ্যাকের অভিযোগের বিষয়ে তারা সিইউএফআই এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ইমেইলে এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, তারা ইসরায়েলি সরকারকে সমর্থন করে। তবে আইজ্যাকের কথার জবাব দিতে তারা অস্বীকৃতি জানায়।
আইজ্যাক শ্লেষের সুরে বলেন, ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি, যিনি নিজেও একজন ব্যাপ্টিস্ট যাজক, তিনিসহ ইভাঞ্জেলিক্যালরা যেন খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে বসবাস করছেন।
সিএনএন লিখেছে, হাকাবি এক বিবৃতিতে আইজ্যাকের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের চেনেন যারা নিজেরাই জায়নবাদী।
“পবিত্র ভূমিতে ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের অভিজ্ঞতা কেউ উপেক্ষা করে না। তবে ইভাঞ্জেলিক্যালরা বাইবেলে বিশ্বাস করে।”
তিনি বলেন, “ইহুদিদের প্রতি ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে বাইবেলে স্পষ্টভাবে যা বলা রয়েছে, সেটা বিশ্বাস করার মধ্যে 'বর্ণবাদী' কিছু নেই, এবং ইহুদি বিশ্বাসই হল খ্রিষ্টান বিশ্বাসের ভিত্তি। আমি আশা করি, রেভারেন্ড আইজ্যাক পবিত্র শাস্ত্রের কর্তৃত্ব মেনে চলার আহ্বানে ইভাঞ্জেলিক্যালদের সাথে যোগ দেবেন।”
তরুণ ইভাঞ্জেলিক্যালদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি
সিএনএন লিখেছে, এত হতাশার মাঝেও আশার আলো দেখছেন আইজ্যাক। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং যুক্তরাষ্ট্র সফরের মাধ্যমে পশ্চিমা তরুণদের কাছে ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের পরিস্থিতি তুলে ধরছেন।
তিনি বলেন, "আমার মনে হয় অনেক ইভাঞ্জেলিক্যাল এখন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সহানুভূতিশীল হচ্ছেন।"
আইজ্যাক বলেন, “আমরা বলিছি না যে ‘বাইবেল ভুলে যান, আসুন রাজনীতি নিয়ে কথা বলি।’ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এটা নয়। বরং আমরা বলছি, ‘আসুন আমরা একসঙ্গে বাইবেল পড়ি। ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টানদের সঙ্গে নিয়ে বাইবেলটা পড়ি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেখি।”
গত বছর নিজের বই 'ক্রাইস্ট ইন দ্য রাবল'-এর প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আইজ্যাক আমেরিকার অন্যতম সুপরিচিত ইভাঞ্জেলিক্যাল প্রতিষ্ঠান হুইটন কলেজে বক্তব্য দেন।
তার মতে, ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল ইভাঞ্জেলিক্যাল জায়গাগুলো থেকে আমন্ত্রণ পাওয়ার অর্থ হল, তরুণ খ্রিষ্টানরা এখন দীর্ঘদিনের বদ্ধমূল ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে আগ্রহী হচ্ছেন।
জরিপেও সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যায়। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক ইভাঞ্জেলিক্যাল আমেরিকানদের ৫১ শতাংশ ইসরায়েলিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল, যেখানে তরুণ ইভাঞ্জেলিক্যালদের ক্ষেত্রে এই হার ২৪ শতাংশ।
আইজ্যাক এখন এমন কিছু মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন, যারা তাদের জায়নবাদী মতবাদ থেকে বেরিয়ে এসেছেন। বেন নরকুইস্ট এমনই একজন।
নরকুইস্ট জানান, মিনেসোটায় বেড়ে ওঠার সময় তিনি খ্রিষ্টান জায়নবাদকে একটি বৈধ বয়ান হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন এবং এ মতবাদের কারণে কেউ যে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে, তা তখন ভাবেননি।
সিএনএনকে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনিদের বিষয়টা আমার ধারণায় ছিল না।”
নরকুইস্ট বলেন, বয়স বিশের ঘরে পৌঁছানোর পর ফিলিস্তিনিদের গল্পের সঙ্গে তার পরিচয় হতে শুরু করে। এরপর পিএইচডির জন্য তিনি যখন ফিলিস্তিনি অঞ্চলে পবিত্র ভূমিতে যান, তখন তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।
“এই প্রক্রিয়াটি আমাকে খ্রিস্ট ধর্মের আদর্শ থেকে বিচ্যুত করেনি। আমি কখনোই আমার বিশ্বাসের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি। বরং আমার মনে হয়েছে, যিশু আমাদের যেমন মানুষ হতে বলেন, আমি তার আরও সত্য রূপ আবিষ্কার করছি, এবং আজও আমি তাই অনুভব করি।”
আইজ্যাক এবং ফাওয়াদলেহ দুজনেই বিশ্বাস করেন, পবিত্র ভূমিতে খ্রিষ্টান হিসেবে তাদের একটি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।
ফাওয়াদলেহ বলেন, “যিশু যেমন জন দ্য ব্যাপটিস্টের দুই শিষ্যকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তেমন আমরাও সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই– আসুন এবং দেখুন। আমাদের গল্পগুলো শুনুন।”
আইজ্যাকের কথাতেও সেই শান্তিপূর্ণ আহ্বানের প্রতিধ্বনি মেলে।
“যেখান থেকে সবকিছুর শুরু, সেই জায়গায় খ্রিষ্টানদের উপস্থিতি ও খ্রিস্টীয় বার্তা টিকিয়ে রাখার ঐতিহাসিক দায়িত্বভার আমরা অনুভব করি। আর সেই বার্তাটি হতে হবে প্রতিবেশীর প্রতি ভালোবাসা, ন্যায়বিচার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার।”