Published : 14 Dec 2025, 12:19 AM
দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ একটি মগ্নচড়া এলাকায় চীনের কোস্টগার্ডের ছোড়া জলকামানের পানির আঘাতে ফিলিপিন্সের তিন জেলে আহত হয়েছেন এবং দুটি মাছধরা নৌকা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিপিন্স কোস্টগার্ড।
শনিবার এক বিবৃতিতে ফিলিপিন্স কোস্টগার্ড জানায়, শুক্রবার সাবিনা মগ্নচড়ার কাছে প্রায় দুই ডজন ফিলিপিন্সের মাছধরা নৌকাকে লক্ষ্য করে জলকামান দিয়ে পানি নিক্ষেপ ও বাধাদানমূলক কৌশল অবলম্বন করে চীনা কোস্টগার্ড।
এ সময় চীনের কোস্টগার্ডের একটি ছোট নৌযান ফিলিপিন্সের কয়েকটি নৌকার নোঙরের দড়ি কেটে দেয়, এতে জেলেদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে বলে অভিযোগ তাদের।
এক বিবৃতিতে ফিলিপিন্স কোস্টগার্ড বলেছে, “আমরা চীনা কোস্টগার্ডকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। তথাকথিত আইন প্রয়োগের নামে নিরীহ জেলেদের জীবন বিপন্ন করার চেয়ে সাগরে তাদের জীবন সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।”
রয়টার্স লিখেছে, এই ঘটনার বিষয়ে চীনের ম্যানিলা দূতাবাস দাপ্তরিক সময়ের পর করা মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। তবে শুক্রবার চীনের কোস্টগার্ড দাবি করে, তারা ফিলিপিন্সের একাধিক নৌযানকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং ‘নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা’ নিয়েছে।
ফিলিপিন্স কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জে তারিয়েলা বলেন, চীনের এই বক্তব্যই তাদের ভুল স্বীকারের প্রমাণ। ফোনে তিনি রয়টার্সকে বলেন, “তারা সাধারণ ফিলিপিন্সের জেলেদের বিরুদ্ধে করা এই অন্যায় কাজের কথা নিজেরাই স্বীকার করেছে।”
ফিলিপিন্স কোস্টগার্ড জানায়, আহত জেলেদের সহায়তার জন্য পাঠানো তাদের জাহাজগুলোকেও চীনা কোস্টগার্ড বারবার বাধা দিয়েছে। তবে শনিবার সকালে তারা জেলেদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয় এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়।
সাবিনা মগ্নচড়া, যাকে চীন ‘শিয়ানবিন রিফ’ এবং ফিলিপিন্স ‘এস্কোদা শোল’ নামে দাবি করে, ফিলিপিন্সের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত।
চীন প্রায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে, যে সমুদ্রপথ দিয়ে বছরে তিন লাখ কোটি ডলারের বেশি বাণিজ্য হয়।
চীনের এই দাবির আওতায় ব্রুনেই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলও পড়ে।
২০১৬ সালে একটি আন্তর্জাতিক আরবিট্রাল ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছিল, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বেইজিংয়ের বিস্তৃত দাবির আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই। তবে চীন সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে আসছে।