Published : 26 Apr 2026, 05:04 PM
দেশের উত্তরাংশে পাহাড়ি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে ১ হাজার ৪০০ অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও আত্মরক্ষা বাহিনীর ১০০ সদস্য মোতায়েন করেছে জাপান।
রোববার টানা পঞ্চম দিন ধরে জ্বলতে থাকা এই অগ্নিকাণ্ডগুলো একটি ছবির মতো সুন্দর উপকূলীয় শহরকে হুমকির মুখে ফেলেছে, বলছে বার্তা সংস্থার রয়টার্স।
আগুন রোববার সকাল পর্যন্ত এক হাজার ৩৭৩ হেক্টর জমি গ্রাস করে নিয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৭% বেশি।
দাবানল প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত ওতসুচির আবাসিক এলাকাগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। জাপানের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ২০১১ সালের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ওতসুচি তার জনসংখ্যার প্রায় এক দশমাংশ হারিয়েছিল।
এবারও ওতসুচির এক হাজার ৫৪১টি পরিবার বা ৩ হাজার ২৩৩ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। এটা শহরটির এখনকার জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ।
“যদিও আত্মরক্ষা বাহিনী আকাশ (হেলিকপ্টারের সাহায্যে) থেকে আগুনের বিরুদ্ধে লড়ছে, শুষ্ক আবহাওয়া এবং বাতাসের কারণে আগুন ছড়াতে পারছে,” সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন ওতসুচির মেয়র কোজো হিরানো।
দাবানলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শহরটির এক বাসিন্দা।
“আগুন সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সুনামি হলে, ধ্বংসযজ্ঞের পরও কিছু পেতে পারেন,” হেলিকপ্টারে করে আত্মরক্ষা বাহিনী আগুনে পানি দিচ্ছে—দূর থেকে দেখতে দেখতে বলেন ৭৪ বছর বয়সী ইয়োশিনোরি কোমাতসু।
দাবানলের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নেই। এক আশ্রয় কেন্দ্রে পড়ে গিয়ে কেবল একজন সামান্য আহত হয়েছেন, ওয়েবসাইটে এমনটাই জানিয়েছে জাপানের অগ্নিকাণ্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
রোববার ও সোমবার ওই এলাকায় বৃষ্টিরও সম্ভাবনা নেই, তবে মঙ্গলবার ওতসুচি ও এর আশপাশে সামান্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, বলছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা।
দাবানলের সূত্রপাত কীভাবে তা স্পষ্ট নয়, এ নিয়ে তদন্ত চলছে।