Published : 16 Aug 2026, 01:49 PM
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশে হওয়া ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রবল শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর প্রদেশটির একটি এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পর সেখানে থেকে প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার দেশটির স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী বেনজামিন পাউলাস অকটাভিয়ানুস জানিয়েছেন, শনিবার ভোরের এই ভূমিকম্পে ৩৬ জন গুরুতর আর ৭৭ জন সামান্য আহত হয়েছে। পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূমিধস হয়ে অনেক রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।
২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায় এক ভূমিকম্পে কয়েকশ জনের মৃত্যুর পর থেকে এ ভূমিকম্পটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল ভূমিকম্পটির পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪১টি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।
দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ফ্লোরেস দ্বীপের সিক্কা অঞ্চল থেকে ৩৩০০ জনেরও বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় সরে গেছেন অথবা একটি স্পোর্টস এরেনায় আশ্রয় নিয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, সিক্কার কিছু বাসিন্দা ধসে পড়া ঘরবাড়ির সামনে তারপলিনের তৈরি একটি তাঁবুতে আশ্রয় নিয়ে আছে। ফ্লোরেসের বন্দর শহর মাউমেরেতে এক হাসপাতালের সামনে তাঁবু খাটিয়ে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের মাঙ্গারাইতে পুলিশ কর্মকর্তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি পরিদর্শন করছেন
সিক্কা শহরের আব্দুল মুতাস (৬৩) ও তার পরিবার চারদিকে গাছ দিয়ে ঘেরা একটি তারপলিনের তাঁবুতে রাত কাটিয়েছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আমি শুধু আমার শরীর নিয়ে আসতে পেরেছি, জোয়ার উপচে উঠছিল, তাই আমরা দৌঁড়ে পালিয়েছি।”
সিক্কার উপশাসক সিমন সুবান্দি সংবাদ চ্যানেল কম্পাস টেলিভিশনকে বলেছেন, “সিক্কার প্রায় কোনো বাসিন্দাই ঘরে থাকার সাহস করছে না, তাই তারা ঘরেই বাইরে তাঁবুতে বা বারান্দায় রাত কাটাচ্ছে।”
ইন্দোনেশিয়ার মন্ত্রিপরিষদ সচিব টেডি ইন্দ্রা বিজয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভূমিকম্প বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে ৩৫০০ জনেরও বেশি সামরিক বাহিনীর সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
দেশটির তল্লাশি ও উদ্ধারকারী সংস্থা জানিয়েছে, মাউমেরের কয়েকটি অংশে যাওয়ার রাস্তা ভূমিধসের পর থেকে অবরুদ্ধ হয়ে আছে, তারপরও উদ্ধারকারীরা ওই অংশগুলোতে পৌঁছেছে।
বিএনপিবি জানিয়েছে, কতোজন নিখোঁজ রয়েছে তার কোনো তাৎক্ষণিক হিসাব পাওয়া যায়নি, তবে তাদের অধিকাংশই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। ১৩০০রও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, পূর্ব নুসা তেঙ্গারার প্রাদেশিক সরকার সেখানে জরুরি অবস্থা জারির কথা বিবেচনা করছে।
ইন্দোনেশিয়ার জিওফিজিক্স সংস্থা জানিয়েছে, এই একই এলাকায় ১৯৯২ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশ ইন্দোনেশিয়ার লোকসংখ্যা ২৯ কোটি। বিশাল এলাকা নিয়ে ছড়িয়ে থাকা এই দ্বীপগুলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা (প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার) নামের ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় একটি চ্যুতির উপর অবস্থিত। অঞ্চলটি তিনটি বড় ভূতাত্ত্বিক প্লেটের মিলনস্থল হওয়ায় এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো ঘটনা ঘটে।