Published : 08 Sep 2026, 02:52 AM
দায়িত্ব পালনের সময় নারী সহকর্মীদের সরিয়ে রাখার প্রতিবাদে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার সাময়িক বন্ধ রাখার ঘটনা ঘটেছে।
দুই দিন আগের একটি ঘটনার জেরে সোমবার দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্রটি বন্ধ রাখা হয়।
একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধিদলের শনিবারের ব্যক্তিগত সফরের সময় আইফেল টাওয়ারে কর্মরত নারী কর্মীদের আড়ালে সরে যেতে বলা হয়েছিল- এমন অভিযোগ করে সোমবার বিক্ষোভ করেন কর্মীরা। তাদের বিক্ষোভের মুখে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় আইফেল টাওয়ার।
শনিবার বিএএসপির (বোচাসানবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা) প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সফরকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটে। পরের দুদিন বিষয়টি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং ফ্রান্সের রাজনীতিকদেরও সমালোচনার মুখে ফেলেছে বলে রয়টার্সের খবরে বলা হয়।
রোববার প্যারিসের কাছে ফ্রান্সে বিএপিএসের প্রথম বৃহৎ হিন্দু মন্দির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মোদী বলেন, এই মন্দির ভারতের প্রাচীন চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ ফ্রান্সে পৌঁছে দেবে এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।
নারী কর্মীদের আড়ালে চলে যেতে বলার ঘটনার বিষয়ে আইফেল টাওয়ার ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের অভিযোগ, প্রতিনিধিদলটির টাওয়ার পরিদর্শনে যাওয়ার সময় নারী কর্মীদের তাদের দায়িত্বস্থল ছেড়ে চলে যেতে বলা হয় এবং সেখানে পুরুষ কর্মীদের দাঁড় করানো হয়।
ইউনিয়ন প্রতিনিধি দিয়ান দাভোয়েন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “প্রতিনিধিদলটি যাওয়ার সময় নারীদের তাদের কর্মস্থল ছাড়তে বলা হয়েছিল, যাতে পুরুষরা তাদের জায়গা নিতে পারে।”
প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি হিন্দু মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রতিনিধিদলটি ফ্রান্সে এসেছিল।
দাভোয়েন বলেন, এ ঘটনার পর সপ্তাহের শেষ দুই দিন কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। এর প্রেক্ষিতে সোমবার সকালে কর্মীরা বৈঠকে বসেন।
তিনি বলেন, “সপ্তাহান্তে উত্তেজনা বেড়ে গিয়েছিল। তাই আজ সকালে কর্মীরা দুটি উদ্দেশ্যে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেন—প্রথমত, ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আলোচনা শুরু করা এবং দ্বিতীয়ত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নারী কর্মীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ আর কখনও না হয়, তা নিশ্চিত করা।”
কর্মীদের বৈঠকের কারণে আইফেল টাওয়ার নির্ধারিত সময়ের পরে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সেখানে টানানো এক নোটিসে লেখা ছিল, “পরিচালনাগত কারণে আইফেল টাওয়ার খুলতে বিলম্ব হচ্ছে।”
দাভোয়েন বলেন, এ ঘটনার জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে।
এ ঘটনার বিষয় প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার বলেছেন, কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করে যত দ্রুত সম্ভব একটি তদন্ত শুরু করা হবে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “এই বিক্ষোভের পেছনে কী ঘটনা ঘটেছে, তা দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্ঘাটন করা জরুরি।”
সিজিটি ট্রেড ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, কর্মক্ষেত্রে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যার ফলে নারী কর্মীদের লিঙ্গের ভিত্তিতে সরিয়ে দেওয়া, প্রতিস্থাপন করা এবং কার্যত অদৃশ্য করে রাখা হয়েছে।
আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসটিই স্বীকার করেছে প্রতিনিধিদলটির পরিদর্শনের সময় এমনভাবে আয়োজনের অনুরোধ করেছিল যাতে 'নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত থাকে'।
এ ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটি এখন বলেছে, “এ ধরনের শর্ত কোনোভাবেই গ্রহণ করা উচিত হয়নি।”
এসইটিই ঘটনাটির তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।
নারীদের বাদ দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভেও ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এক্সে তিনি লেখেন, “বিদেশি দর্শনার্থীদের দাবি মেটাতে নারীদের সরে দাঁড়াতে বলা হবে—এটি আমি কখনও মেনে নিতে পারি না।”
তিনি আরও বলেন, “অতিথিকে স্বাগত জানানো মানে কখনও আমাদের মূল্যবোধ ত্যাগ করা নয়। ফ্রান্সে নারীরা জনজীবনের পূর্ণাঙ্গ অংশ। কাউকে তাদের অদৃশ্য হয়ে যেতে বলা হয় না।”