১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে পোস্ট: অধ্যাপককে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পোস্ট’ দিয়ে গ্রেপ্তার হরিয়ানার অশোক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে জামিন দিলেও মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়নি আদালত।

‘অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে পোস্ট: অধ্যাপককে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট
আলি খান মাহমুদাবাদ। ছবি: ইন্সটাগ্রাম/বিবিসি।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 May 2025, 06:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:46 PM

ভারতে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ‘পোস্ট’ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

বুধবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি একে সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ হরিয়ানার সোনিপতের অশোক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে।

তবে জামিন পেলেও অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। অধ্যাপককে ভর্ৎসনাও করেছে আদালত।

অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট উল্লেখ করেছে,  অধ্যাপক 'সস্তার জনপ্রিয়তা' পাওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং এটি ছিল এক ধরনের 'ডগ হুইসলিং'। অর্থাৎ, কোনও কিছু বা কারও নাম না করে সে বিষয়টিকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করা।

বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “সবারই বাকস্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের অধিকার আছে। কিন্তু এখন কি এসব নিয়ে কথা বলার সময়? দেশ ইতিমধ্যেই এসবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।  দানব এসে আমাদের জনগণকে আক্রমণ করেছে, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে কেন অপারেশন সিঁদুরকে ব্যবহার করা হচ্ছে?”

একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিট গঠন করে এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করতে বলেছে। ৩ জন আইপিএস অফিসার থাকবেন সেই টিমে। একজন নারী অফিসারও থাকবেন। সিটের সদস্যরা হরিয়ানা বা দিল্লির হতে পারবেন না বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে বড় ধরনের বিপাকে পড়েন হরিয়ানার অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান আলি খান মাহমুদাবাদ। কী মন্তব্য করেছিলেন অধ্যাপক?

অপারেশন সিঁদুর নিয়ে দুই নারী সেনা- উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং এবং কর্নেল সোফিয়া কুরেশির একটি সংবাদ সম্মেলনকে 'ভন্ডামি' বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

পোস্টে মাহমুদাবাদ লেখেন, “আমি খুব খুশি যে, অনেক দক্ষিণপন্থি ভাষ্যকার এই দুইজনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু তাদের প্রশংসা যারা করছেন, তারা কেন গণপিটুনি কিংবা বুলডোজার দিয়ে সম্পত্তি ধ্বংস করার বিষয়গুলিতে মুখ খোলেন না?

“যে সব ভারতীয় নাগরিক ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানোর কারণে, অনৈতিক বুলডোজার চালিয়ে ঘর নষ্ট করে দেওয়ার কারণে, গণপিটুনির শিকার হয়ে নিগৃহীত হয়েছেন, তারা কী আগামীতে সুরক্ষিত থাকবে দেশে?”

এরপরই অধ্যাপক মাহমুদাবাদকে হরিয়ানা রাজ্য নারী কমিশন থেকে নোটিশ পাঠানো হয়। হরিয়ানার এক বিজেপি নেতাসহ নারী কমিশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পরদিনই হরিয়ানা ও দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

মাহমুদাবাদকে ১৮ মে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মঙ্গলবার হরিয়ানার একটি আদালত তাকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়।

অধ্যাপক মাহমুদাবাদ নিজের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেছেন, অপারেশন সিঁদুর এবং এর সঙ্গে জড়িত নারী অফিসারদের উপর তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মোটেও নারীবিদ্বেষী ছিল না, অযথা তাকে সেন্সর করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমি বরং প্রশংসা করেছি যে, একজন মুসলিম নারী অফিসারকে এমন গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিংয়ে সামিল করা হয়েছে। আমি বলতে চেয়েছি, এই অন্তর্ভুক্তির মানসিকতা যেন দেশের অন্যান্য মুসলিম নাগরিকদের প্রতিও দেখানো হয়।”

এরপরই অধ্যাপক মাহমুদাবাদ জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভঙ্গের চেষ্টা, বৈরিতা সৃষ্টির চেষ্টা, বিচ্ছিন্নতাবাদে উস্কানি, সশস্ত্র বিদ্রোহ, নাশকতামূলক কার্যকলাপ, ধর্মীয় বিশ্বাসের অবমাননার অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পেহেলগোম-এ পর্যটকদের ওপর গুলি চালায় জঙ্গিরা। তার পাল্টা জবাবেই ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত।

এই অভিযানের পরই ভারতের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন দুই নারী অফিসার— কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ভ্যোমিকা সিং।

বুধবার সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাপক মাহমুদাবাদকে জামিন দিলেও তার ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। 

যেমন: মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে অধ্যাপক কোনও বক্তৃতা করতে পারবেন না। এ বিষয়ে তিনি কোনও নিবন্ধ লিখতে পারবেন না এবং সমাজমাধ্যমে কোনও পোস্ট করতে পারবেন না। অধ্যাপককে পাসপোর্ট জমা রাখারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।