কেবল হাতের জোরে এভারেস্ট জয়!
“যারা মনে করেন পতনের পর জীবন শেষ হয়ে যায়, এটা তাদের জন্য।”
রুশ পর্বতারোহী রুস্তাম নাবিইভ কৃত্রিম পায়ের সাহায্য ছাড়াই কেবল হাতের জোরে এভারেস্ট পর্বতে উঠে ইতিহাস গড়েছেন।
এর আগে দ্বৈত অঙ্গচ্ছেদ হওয়া কোনো ব্যক্তি সেখানে উঠতে পারেননি।
এনডিটিভি লিখেছে, ২০১৫ সালে একটি দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো সাবেক এই প্যারাট্রুপার বুধবার বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেন।
এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর সোশাল মিডিয়ায় নাবিইভ একটি পোস্ট দিয়েছেন, যাতে জুড়ে দিয়েছেন এভারেস্ট চূড়ায় নিজের ছবি।
ওই ছবিতে দেখা যায়, তার হাতে থাকা ফলকে লেখা, “যারা মনে করেন পতনের পর জীবন শেষ হয়ে যায়, এটা তাদের জন্য। রুস্তাম নাবিইভ, এভারেস্ট ২০২৬।”
নাবিইভ জানিয়েছেন, তিনি সকালের দিকে চূড়ায় পৌঁছান এবং তার এই অর্জন বিশ্বজুড়ে থাকা অনুসারী ও সমর্থকদের উৎসর্গ করেছেন।
ছবির ক্যাপশনে নাবিইভ লিখেছেন, “২০ মে, নেপাল সময় সকাল ৮:১৬ মিনিটে, পর্বতাভিযানের ইতিহাসে এই প্রথমবার, মানব ইতিহাসের প্রথমবার, আমি রুস্তাম নাবিইভ কেবল আমার হাতের জোরে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছি!”
তিনি এও লিখেছেন, “যারা আমাকে দেখছেন, তাদের সবাইকে আমি এই আরোহণ উৎসর্গ করছি। এই কাজের মাধ্যমে আমি কেবল একটি কথাই বলতে চাই: যতক্ষণ আপনার মধ্যে প্রাণ আছে, লড়াই করুন! দয়া করে শেষ পর্যন্ত লড়াই করুন! এটার মূল্য আছে!”
এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের ফিল্ড অফিস কোঅর্ডিনেটর খিম লাল গৌতম আনাদোলু এজেন্সির সঙ্গে আলাপচারিতায় নাবিইভের মাইলফলক ছোঁয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।
‘যে কোনো কিছুই সম্ভব’
নাবিয়েভের অবিশ্বাস্য মনোবল ও নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে সোশাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা তার এই যাত্রাকে চিরন্তন কথা ‘যেকোনো কিছুই সম্ভব’ বলে উদযাপন করছেন।
একজন ব্যবহারকারী বলেছেন, “অভিনন্দন! আমি এক সেকেন্ডের জন্যও সন্দেহ করিনি।”
আরেকজন লিখেছেন, “আমি এখানে বসে কাঁদছি, এই পুরো মাসটা আমি খুব চিন্তিত ছিলাম। আপনি সত্যিই একজন দারুণ মানুষ। এখন আপনার পরিবারের কাছে ফিরে যান।”
তৃতীয় একজন মন্তব্য করেছেন, “পর্বত জয়ের শুভেচ্ছা, ভাই!! আপনি এই গ্রহের সেরা উৎসাহদাতা! জ্বলে উঠুন ভাই, জ্বলে উঠুন। আমি আপনার সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করি! আপনার এবং আপনার আত্মীয় ও বন্ধুদের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।”
চতুর্থ একজন লিখেছেন, “ওহ, আপনি এটি পেরেছেন দেখে আমরা কত যে খুশি!!! এমন এক চমৎকার বিজয়ের পর সুস্থভাবে ফিরে আসুন। এটি আমাদের সবার মনে আশা জাগায়–যে কোনো কিছুই সম্ভব! আমাদের ভেতরে যে শক্তি আছে, তা এক বিশাল ক্ষমতা।”
