১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে গুয়ামে যাচ্ছে মার্কিন বি-টু বোমারু বিমান

এই বিশাল বিমানগুলোই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ১৩৬০০ কিলোগ্রামেরও বেশি ওজনের বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা জিবিইউ-৫৭ বহন করতে সক্ষম।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে গুয়ামে যাচ্ছে মার্কিন বি-টু বোমারু বিমান
মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বি-টু বোমারু বিমান আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি নিচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jun 2025, 09:23 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:14 PM

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বেশ কয়েকটি বি-টু স্টিলথ বোমারু বিমান প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ গুয়ামে নিয়ে যাচ্ছে। 

শনিবার দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ বিষয়টি জানিয়েছেন। 

ইসরায়েলের সঙ্গী হয়ে ইরানে সরাসরি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না সে বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার মধ্যেই এসব অত্যাধুনিক বোমারু বিমান মিজৌরির হোয়াইটম্যান বিমান ঘাঁটি থেকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটির উদ্দেশে রওনা হয়েছে।  

ডানার বিস্তারে ৫০ মিটারের বেশি প্রশস্ত এই বিশাল বিমানগুলোই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ১৩৬০০ কিলোগ্রামেরও বেশি ওজনের বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমা জিবিইউ-৫৭ বহন করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের পর্বতের গভীরে অবস্থিত ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস করতে প্রয়োজন এই রকম অন্তত দু’টি বোমা। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে এই বোমা ব্যবহার করা হতে পারে।   

মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বি-টু বোমারু বিমানকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মেরিন কোরের চারটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। ছবি: রয়টার্স 

মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বি-টু বোমারু বিমানকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মেরিন কোরের চারটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান

আকাশপথে ইসরায়েলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য থাকলেও পর্বতের ১০০ মিটার গভীরে অত্যন্ত সুরক্ষিত কংক্রিটের বাংকারে অবস্থিত ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস করার মতো কোনো অস্ত্র দেশটির নেই। এই কেন্দ্রটি ধ্বংস করতে হলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য প্রয়োজন হবে। 

তবে গুয়ামে বি-টু বোমারু বিমান মোতায়েনের এই পদক্ষেপের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, রয়টার্স তা নিশ্চিত হতে পারেনি। 

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ওই দুই মার্কিন কর্মকর্তা আর বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করতে রাজি হননি। কতোগুলো বি-টু বোমারু বিমান গুয়ামে নেওয়া হচ্ছে তাও জানাননি তারা।   

এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোমারু বিমানগুলো গুয়াম থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও নেওয়ার আগাম কোনো নির্দেশ এখনও দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। 

বি-টু বোমারুগুলো ভারত মহাসাগরের দ্বীপ ডিয়েগো গার্সিয়ার মার্কিন-ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয় কি না, বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা তার ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান চালানোর জন্য ডিয়েগো গার্সিয়া একটি আদর্শ অবস্থানে আছে। 

যুক্তরাষ্ট্র গত মাস পর্যন্ত ডিয়েগো গার্সিয়ায় বি-টু বোমারু বিমান রেখেছিল। তারপর সেগুলো সরিয়ে নিয়ে সেখানে বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করে দেশটির সামরিক বাহিনী। 

গেল সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র আকাশে চলন্ত অবস্থায় যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহকারী অনেকগুলো সামরিক ট্যাংকার বিমান ইউরোপে নিয়ে গেছে, পাশাপাশি অন্য সামরিক রসদ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমানও মোতায়নে করেছে পেন্টাগন।  

ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরী অঞ্চলে থাকা একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীও মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা হয়েছে।