১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

৩০টির বেশি ইরানি জাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

শ্রীলঙ্কা জানিয়েছে, তারা তাদের উপকূলে থাকা একটি ইরানি নৌযানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ইঞ্জিনে সমস্যা ধরা পড়ায় ওই ইরানি জাহাজটি আগেই শ্রীলঙ্কার বন্দরে ভেড়ার অনুমতি চেয়েছিল।

৩০টির বেশি ইরানি জাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
সরকারি সফরে কলম্বোতে ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ আইআরআইএনএস বুশেহর। ফাইল ছবি। ছবি: শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Mar 2026, 09:58 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:05 PM

মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তারা এখন পর্যন্ত ৩০টির বেশি ইরানি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। 

এ জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ড্রোনবাহী জাহাজও আছে, যেটি আগুনে পুড়ছে বলে বৃহস্পতিবার দাবি করেছে তারা। 

যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ৯০% কমে গেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

শ্রীলঙ্কা জানিয়েছে, তারা তাদের উপকূলে থাকা একটি ইরানি নৌযানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আগেরদিনই যুক্তরাষ্ট্র একই জলসীমায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল, যাতে অন্তত ৮৭ জনের মৃত্যু হয়।

আইআরআইএনএস বুশেহর নামের ওই জাহাজটি তাদের একটি ইঞ্জিনে সমস্যা ধরা পড়ার কথা জানিয়ে বুধবার শ্রীলঙ্কার যে কোনো বন্দরে ভেড়ার অনুমতি চায়। ওই জাহাজে থাকা ২০৮ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর ওই জাহাজটিকে ত্রিনকোমালে বন্দরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। 

শ্রীলঙ্কা বলছে, তারা ইরান যুদ্ধে কোনো পক্ষেই নেই, তবে ‘মানবিকতার ক্ষেত্রে তারা কখনোই কার্পণ্য করবে না’। 

এর আগেরদিন, বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূল থেকে ৮১ কিলোমিটার দূরে এক মার্কিন ডুবোজাহাজের টর্পেডোর আঘাতে ইরানি জাহাজ আইআরআইএস দেনা ডুবে যায়। 

ফ্রিগেটটি বঙ্গোপসাগরে বহুদেশীয় নৌ মহড়া শেষ করে ফিরছিল, ডুবে যাওয়ার সময় নৌযানটিতে ১৮০ ক্রু ছিল, তাদের মধ্যে ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারে শ্রীলঙ্কা। কয়েক ডজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, বাকিদের খোঁজে এখনও অভিযান চলছে। 

এ ঘটনাকে ‘সমুদ্রে বর্বরতা’ আখ্যা দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এ হামলার জন্য ‘তিক্ত অনুশোচনায়’ ভুগতে হবে। 

অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার নজির হিসেবে হাজির করেছিলেন। 

আইআরআইএনএস ‍বুশেহর ত্রিকোনমালেতে থাকলেও এর ৫৩ কর্মকর্তা, ৮৪ ক্যাডেট অফিসার, ৪৮ ঊর্ধ্বতন নাবিক ও ২৩ নাবিককে কলম্বোতে নিয়ে আসা হয়েছে।