Published : 25 May 2026, 01:15 PM
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৌদি আরবে উপস্থিত হওয়া লাখো মুসলমানের তাঁবুনগরী মিনায় সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।
নিয়ম মেনে রোববার রাতেই সেলাইবিহীন সাদা কাপড় (ইহরাম) পরে মিনার উদ্দেশে রওনা দেবেন তারা।
রোববার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের মিনায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে মক্কার বাংলাদেশ হজ অফিস ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো।
নিয়ম অনুযায়ী, হজযাত্রীরা ৮ জিলহজ সোমবার মিনায় অবস্থান করে ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাত্রিযাপন শেষে ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) তারা আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন।
সেখানেই হবে হজের মূল পর্ব। সৃষ্টিকর্তার কাছে হাজিরা দিতে ‘লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে বিদায় হজের স্মৃতি বিজড়িত এই ময়দান।
সেখানে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে যোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন।
সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন হাজিরা।
এরপর তারা মাগরিবের নামাজ না পড়েই মুজদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। মুজদালিফায় পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন এবং মুজদালিফায় রাত্রিযাপন করবেন, থাকবেন খোলা আকাশের নিচে। পরদিন কোরবানির মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহা উদ্যাপন হবে।
মুজদালিফায় সারারাত খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করে ফজরের নামাজ পড়ে আবার হাজিরা রওনা দেবেন মিনার উদ্দেশে। শয়তানকে মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করতে হয় মুজদালিফায় অবস্থানের সময়, রাতে কিংবা সকালে। ১০ জিলহজ সকালে মুজদালিফা থেকে মিনায় এসে তিনবার জামরাতে সাতটি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হয়।
বড় জামরাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করে মিনায় কোরবানির পশু জবাই করতে হয়। যারা সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় কোরবানি সম্পন্ন করেন, তারা এসএমএসর মাধ্যমে কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার বার্তা পান।
এরপর হাজিরা চুল কেটে ফেলতে পারেন এবং সাধারণ কাপড় পরে যেতে পারেন কাবাঘর প্রদক্ষিণ করতে। মহানবী (সা.) জোহরের নামাজ পড়েছিলেন মসজিদুল হারামে।
কাবাঘর প্রদক্ষিণ শেষে দুই রাকাত নামাজ পড়ে হাজিরা চলে যান সাফা-মারওয়া মধ্যে সাতবার ছুটোছুটি করতে। এ সময় প্রচুর পরিমাণে জমজমের পানি পান করতে বলা হয়।
১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ধারাবাহিকভাবে ছোট, মধ্যম ও বড় জামরাতে ৭টি করে ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে প্রতিদিন।
তবে যদি কেউ কঙ্কর নিক্ষেপের আগে কিংবা পরে কাবা শরিফ গিয়ে তাওয়াফ করেন, তাহলে তাকে তাওয়াফের পর আবার মিনায় চলে আসতে হবে এবং রাতে মিনায় অবস্থান করতে হবে।
নারী, বৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে দুর্বলরা কঙ্কর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে রাতের সময় বেছে নিলে ভালো।
এ বছর বিভিন্ন দেশ থেকে ১৬ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে এবার হজ পালন করছেন সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ।
হজ শেষে ৩০ মে থেকে বাংলাদেশে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে; যা আগামী ৩০ জুন শেষ হবে।