Published : 29 Aug 2026, 03:07 PM
হরমুজ প্রণালি খোলা ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপদ রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে দাবি করছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর দাবি, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নিজেদের হাতে রেখেছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দাবিকে ‘স্পষ্ট মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরসায়েলের যৌথভাবে ইরানে হামলার পর জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্ব জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। পরে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অবরোধ আরোপ করে।
ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। কয়েকবার যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ঘোষণা দিয়েছে।
ফক্স নিউজ লিখেছে, তেলের বিশ্ববাজারকে প্রভাবিত করতেই মার্কিন কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের পরিবেশ নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য দিচ্ছেন বলে আইআরজিসি অভিযোগ করেছে।
আইআরজিসি বলেছে, এই জলপথে তাদের নিয়ন্ত্রণ ‘সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত’। তেহরানের অনুমতি ছাড়া যেকোনো জাহাজের চলাচলে কড়াকড়ি ‘পূর্ণ শক্তিতে’ বহাল থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত এবং চুক্তি অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি না মানা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বজায় থাকবে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে, ইরানের নৌযান চলাচলের ওপর তাদের অবরোধ বহাল রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখান থেকে মাইন অপসারণ করা হয়েছে।
মার্কিন দাবি সত্ত্বেও শিপিং ডেটা বলছে, প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল এখনো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, সম্প্রতি যেখানে দিনে গড়ে ১৫টি পণ্যবাহী জাহাজ পারাপার হতো, সেখানে বৃহস্পতিবার মাত্র সাতটি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে, আগের দিন অতিক্রম করেছিল ১৭টি।
তবে কিছু জাহাজ ‘ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার’ বন্ধ রেখে চলায় প্রকৃত সংখ্যায় কিছুটা হেরফের হতে পারে।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগই পরিবহন হতো এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে।
চলমান এই অচলাবস্থার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন প্রণালিটি এড়িয়ে বিকল্প পাইপলাইন ও রপ্তানির পথ তৈরির পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করছে।
প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পরিচালনা এবং এ সংক্রান্ত রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
আইআরজিসি জানিয়েছে, চূড়ান্ত কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয়ে ওমানের সঙ্গে ঐকমত্য হয়েছে।
এছাড়া কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় বাণিজ্য নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরুর কূটনৈতিক চাহিদাও তৈরি হচ্ছে।
এদিকে, যুদ্ধ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপের মুখে জনগণকে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি।
রয়টার্স লিখেছে, চরম মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য হ্রাস এবং জ্বালানি তেল রপ্তানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে ইরান।