‘বৈধতার সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন থেকে আসে না’, ইরাককে বলেছে ইরান
“বৈধতা আসে নাজাফের মাটি ও শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে,” ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লিখেছেন ভেলায়াতি।
কয়েকটি বিমানবন্দরে ইরানিদের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়ায় ইরাকের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক উপদেষ্টা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি শুধু সমালোচনা করেননি, ‘ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও বৈধতার সীমা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন।
ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার ভোর থেকে ইরানের সব ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।
সরকারের নির্দেশনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এ ঘোষণা দেওয়া হয় বলে শনিবার ভয়েস অব এমিরেটসের খবরে বলা হয়েছে।
তেহরানের এ প্রতিক্রিয়া এমন সময় এলো, যখন তাদের ওপর ওয়াশিংটন নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্ট প্রায় ৩৬টি কোম্পানিকে নিশানা করা হয়েছে, যেখানে বেসামরিক বিমান চলাচলকারী কোম্পানি রয়েছে ২৭টি।
শনিবার ইরাকের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা বিমান চলাচলের বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলছে।
এর মধ্যে এক্স পোস্টে মুজতাবা খামেনির পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া এলো।
ভেলায়াতি লিখেছেন, নাজাফে বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। বিমানবন্দরটি ধর্মীয় স্থানগুলোতে যাতায়াতে ব্যবহৃত হতো বলে তুলে ধরেন তিনি।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “জনাব আল-সুদানি, বৈধতা ওয়াশিংটন থেকে আসে না; আসে নাজাফের মাটি ও শহীদদের রক্ত থেকে।”
তিনি তেহরানপন্থি ‘কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ জোটে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, “সামরিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের ক্ষতিপূরণ করতে শত্রুপক্ষ ভেতর থেকে ‘ফ্রন্টগুলোর ঐক্য’ বিনষ্টের চেষ্টা করছে।”
শেষে তিনি বলেন বলেন, “রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ ময়দানগুলো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন করা যায় না; সানা থেকে নাজাফ পর্যন্ত প্রতিরোধ ফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।”
