উপসাগরের নাম না বদলাতে গুগল ম্যাপসকে অনুরোধ মেক্সিকোর
নতুন এই নাম কেবল যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যবহারকারীরাই দেখতে পাবেন, বিশ্বের অন্যান্য স্থান থেকে শতাব্দীকাল ধরে চলে আসা আগের নাম ‘মেক্সিকো উপসাগর’-ই দেখা যাবে।
মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে টেক জায়ান্ট গুগল, তা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে চিঠি লিখেছেন মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম।
ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহে দেওয়া এক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্র, কিউবা এবং মেক্সিকো দিয়ে ঘেরা জলভাগটির নাম ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
গুগল ম্যাপস সেই নির্দেশ মেনেই নাম বদলের সিদ্ধান্ত নেয়।
যদিও এই নতুন নাম কেবল যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যবহারকারীরাই দেখতে পাবেন, বিশ্বের অন্যান্য স্থান থেকে শতাব্দীকাল ধরে চলে আসা আগের নামই দেখা যাবে, জানিয়েছে বিবিসি।
মেক্সিকোর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র আইনগতভাবে এই উপসাগরের নাম পরিবর্তন করতে পারে না। কেননা, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো দেশের সার্বভৌম অঞ্চল তার উপকূল থেকে মাত্র ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত।
শেইনবাউম বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এলাকার জন্যই কেবল নাম পরিবর্তন প্রযোজ্য হতে পারে।"
এ প্রসঙ্গে মন্তব্য চেয়ে বিবিসি গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তারা সাড়া দেয়নি।
তবে সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়ায় এক বিবৃতিতে তারা বলেছিল, “আমাদের দীর্ঘদিনের চর্চা অনুযায়ী সরকার বা এর অনুমোদিত সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম আপডেট করলে, আমরাও তা বদলে ফেলি।”
ট্রাম্পের অন্য এক আদেশ মেনে গুগল যুক্তরাষ্ট্রে মাউন্ট ডেনালি পাহাড়ের নামও বদলে মাউন্ট ম্যাকিনলি রাখতে যাচ্ছে।
“যখন বিভিন্ন দেশে সরকারিভাবে নামের মধ্যে পার্থক্য থাকে, তখন ম্যাপস ব্যবহারকারীরাও তাদের দেশের নামই দেখতে পান," বলেছে গুগল।
শেইনবাউম গুগলের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘কোনো একটি দেশের আদেশ’ মেনে একটি ‘আন্তর্জাতিক জলরাশির’ নাম পরিবর্তন করা উচিত হবে না প্রতিষ্ঠানটির।
মেক্সিকান এই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পদক্ষেপকে বিদ্রুপ করতেও ছাড়েননি। বলেছেন, মেক্সিকো গুগলকে আরও কিছু নাম বদলানোরও অনুরোধ করতে পারে।
“আমরা ম্যাপে মেক্সিকান আমেরিকা দেখানোর জন্য অনুরোধ করতে যাচ্ছি,” বলেন শেইনবাউম।
বামপন্থি এই প্রেসিডেন্ট আগেও মজা করে বলেছিলেন, উত্তর আমেরিকার নাম ‘আমেরিকা মেক্সিকানা’ রাখার কথা ভাবছেন তিনি।
“তিনি (ট্রাম্প) বলছেন যে মহাদেশের দিক বিবেচনায় তিনি একে আমেরিকা উপসাগর ডাকবেন। কিন্তু আমাদের কাছে এটি মেক্সিকো উপসাগরই, সমগ্র বিশ্বের কাছেও তা-ই,” উপসাগরের নাম বদলে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নিয়ে এমনটাই বলেছিলেন তিনি।
